Chowrangee: চৌরঙ্গী নিয়ে মাথাব্যথা অভিষেকের, দিলেন বড় বার্তা, কী বলছেন সুদীপ-পত্নী?
Chowrangee: গত ভোটে উত্তর কলকাতায় প্রত্যাশিত ভাবেই জয় পেয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর এই জয়ের মধ্যেও বহু প্রশ্ন উঠেছে শাসকদলের অন্দরে।

কলকাতা: কলকাতা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের জোড়াসাঁকোর পাশাপাশি চৌরঙ্গী আসন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে প্রায় ৩০ শতাংশ বুথে পিছিয়ে তৃণমূল। ১১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬ টি ওয়ার্ডেই এগিয়ে বিজেপি। ৪৫, ৪৭. ৪৮, ৪৯, ৫০, ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে পিছিয়ে রয়েছে শাসকদল। বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, পরিস্থিতি সামলে নেওয়া যাবে। যদিও তৃণমূল কর্মীদের একাংশের দাবি, কোথাও একটা ত্রুটি থেকে যাচ্ছে।
সূত্রের খবর, গত শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন, তাতে চৌরঙ্গী বিধানসভায় বিশেষ জোর দেন তিনি। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-নয়নার বিধানসভা এলাকাতেই তৃণমূল বহুলাংশে পিছিয়ে রয়েছে। কিন্তু কেন? তা খুঁজে বার করার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূলের নম্বর টু। এলাকার নেতা কর্মীদের আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে দলের বিভিন্ন কাজকর্ম পালন করতে হবে। দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি করার নির্দেশ দেন অভিষেক। ইতিমধ্যেই তৃণমূল তাতে গুরুত্ব দিয়ে কাউন্সিলর, ব্লকের সভাপতি নিয়ে বৈঠকও করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ভোটে উত্তর কলকাতায় প্রত্যাশিত ভাবেই জয় পেয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর এই জয়ের মধ্যেও বহু প্রশ্ন উঠেছে শাসকদলের অন্দরে। কারণ, ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের তুলনায় ভোটের ব্যবধান কমে সুদীপের। বিজেপি উত্তর কলকাতায় প্রার্থী করেছিল সদ্য তৃণমূল ছেড়ে পদ্মশিবিরে যোগ দেওয়া তাপস রায়কে। ফলাফলের নিরিখে দেখা গিয়েছে, পরাজিত হলেও ভালই লড়াই করেছেন তাপস।
কিন্তু তৃণমূল পিছিয়ে থাকল কেন?
তৃণমূল অন্দরেই খবর, এই এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে অবাঙালিদের বাস। যেখানে তৃণমূল ভোট পায়নি। বিজেপি লিড পেয়েছে। কিন্তু সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় গত ভোটে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের লড়াই হয়েছে। সেখানে তৃতীয় স্থানে বিজেপি। কংগ্রেস সেখানে ভোট কেটে নেওয়ায় বিজেপি লিড পায়নি। নেতৃত্বের নির্দেশ, যে যে এলাকায় খুত ধরা পড়েছে, সেখানকার সংগঠন আরও জোরদার করতে হবে। যাতে আগামী বিধানসভা ও পুরসভা নির্বাচনে ভাল ফল করতে পারে দল।
চৌরঙ্গীর তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক যখন বলেছেন, তখন নিশ্চয়ই সেইভাবে কাজ করব। বাড়তি কিছু বলেননি, বলেছেন দেখে নিতে হবে। আমরা এর ওপরে ইতিমধ্যেই কাজ করছি।”
৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে বলেন, “৪৮ নম্বর আসনটিকে কেন্দ্র করে যে ওয়ার্ডগুলি রয়েছে, সেগুলির মার্জিন খাতা খুললেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। এখানে মার্জিন অনেক বেশি ছিল। কিন্তু ভোটটা আমার কাছে স্ট্যাটিসফেকশনের জায়গায় নেই। যেহেতু তাপস রায় এখানকার কাউন্সিলর ছিলেন, এখান থেকে রাজনীতি শুরু করেছেন, তাঁর একটা প্রভাব তো ছিলই। সেটা তো বারবার পড়বে না…”
৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মোনালিসা ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা কিন্তু কোথাও খামতি রাখছি না। তবুও মানুষের মধ্যে কোথাও কোথাও একটু ক্ষোভ জন্মাতে পারে। আমি বছরে দুবার করে আমার এলাকার প্রতিটা বাড়ি ঘুরে দেখি। তাঁদের অভিযোগ শুনে নথিভুক্ত করে, তার ওপরে কাজ করা হয়।”
কলকাতা উত্তরের পরাজিত বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়ের অবশ্য বক্তব্য, “এই ধরনের এমপি, এমএলএ থাকলে তো মানুষ সন্তুষ্ট থাকবে নাকি? সুদীপ-নয়না নিজেদের বুথেই হেরেছেন। ৯১টা কনস্টিটিউশনে হার আছে। অভিষেক কি জানে না? সবই জানে।”

