
কলকাতা: বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন-পর্বে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়েছিল। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট-পর্বের জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে তাঁকেও কৃতিত্ব দেন অনেকে। আর শনিবার নতুন সরকার গঠনের পর বড় দায়িত্ব পেয়েছেন সুব্রত গুপ্ত। এখন তিনি বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পরামর্শদাতা। আর দায়িত্ব পেয়েই টিভি৯ বাংলাকে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে জানিয়ে দিলেন, রবিবার থেকেই কাজ শুরু করবেন। তাঁর প্রাথমিক লক্ষ্য কী, তাও স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শদাতা।
কী বললেন সুব্রত গুপ্ত?
বাংলায় ভোটের সময় বিশেষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পেয়েছিলেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার সুব্রত গুপ্ত। গত ৭ মে সেই দায়িত্ব থেকে তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তারপরই বাংলায় আরও বড় দায়িত্বে এবার তিনি। বাংলায় কী কী সমস্যা, কীভাবে তাঁর সমাধান করবেন, টিভি৯ বাংলায় এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে সব জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পরামর্শদাতা সুব্রত গুপ্ত। তিনি বলেন, “আমাদের রাজ্যের অনেকগুলো সমস্যা রয়েছে। তার মধ্যে একটা বড় হল কর্মসংস্থান। কর্মসংস্থান কীভাবে বাড়ানো যায়, শিল্প কী করে আনা যায়, তা নিয়ে নীতি তৈরি করতে হবে। বিভিন্ন দফতরের সচিবদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তাঁদের ইনপুট নিতে হবে। মতামত নিতে হবে চেম্বার অফ কর্মাসের। সেইমতো এগোতে হবে। নীতি তৈরি করতে হবে। এটাই আমার মনে হয় প্রাথমিকভাবে একটা কাজ হবে। তবে প্রাথমিক কী কাজ হবে, সেটা সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করবেন। কিন্তু, আমার যেটা মনে হয়, তা বললাম।”
প্রাথমিক লক্ষ্য নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের রাজ্যে সব সেক্টরেই কিছু না কিছু সমস্যা রয়েছে। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই নজর দেওয়া প্রয়োজন। কোন ক্ষেত্রে আগে নজর দেওয়া হবে, সেটা সরকার ঠিক করবে। তবে আমার মনে হয়, কর্মসংস্থান একটা বড় বিষয় হবে। মহিলাদের ক্ষমতায়ন আর একটা বড় বিষয়। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা-এই দুটোর উপর নিশ্চয় জোর দেওয়া হবে। এগুলো আমার চাওয়া।”
এদিন পরামর্শদাতা হিসেবে তাঁকে নিয়োগ করা হয়েছে। আগামিকাল রবিবার। তাহলে কি সোমবার থেকে কাজ শুরু করবেন? প্রশ্ন শুনেই সুব্রত গুপ্তর জবাব, “কাল থেকেই কাজ শুরু করব।”
তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, আমলাতন্ত্রকে বদলানোর চেষ্টা করবেন? জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের রাজ্যকে সত্যিই যদি উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে হয়, তাহলে আমাদের আমলাতন্ত্রের যে মানসিকতা, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার বদল প্রয়োজন। এখন অনেক রকম প্রযুক্তি এসে গিয়েছে। কাজ আরও অনেক সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব। মানুষকে আরও উন্নত পরিষেবা দেওয়া সম্ভব। সেগুলো আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করব।”