
কলকাতা: রবিবার বিকাল চারটেয় ভোট ঘোষণা। ঠিক তার ৪০ মিনিট আগে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মেনে নিলেন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ। মিটিয়ে দেওয়া হবে সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ। মার্চ মাস থেকেই মিলবে বকেয়া ডিএ, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০০৯ সালের ROPA অনুযায়ী বকেয়া DA দেবে রাজ্য সরকার।
কী বলছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ?
DA মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, “এটা বলে দেওয়া উচিত ছিল, সুপ্রিম কোর্টের রায়কে মেনে নিচ্ছে। এটা বললে আমরা বেশি খুশি হতাম। রাজ্য সরকার যে নোটিফিকেশন দিয়েছিল, তাতে বলা হচ্ছিল, সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা পাবেন। যদি এটার কোনও অমান্য হয়, তাহলে গোটা রাজ্য অচল করার দিকে যাব। পরশু দিনই ধর্মঘট হয়েছে, আজকের ঘোষণা, সেই ধর্মঘটের সফলতাকেই ব্যক্ত করছে। এটা চাপের বহিঃপ্রকাশ। একদিকে সুপ্রিম কোর্ট, একদিকে আন্দোলনের চাপ।”
কিন্তু আদৌ এটা বকেয়া ডিএ নাকি বাজেটে বর্ধিত ডিএ-এই এগিয়ে এনে কার্যকর করা হচ্ছে? ওক্স হ্যান্ডেলের পোস্ট ঘিরে একটা দ্বিধা তৈরি হয় সরকারি কর্মীদের মধ্যে।
কনফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমরা এক্স হ্যান্ডেলে যে পোস্টটা দেখছি, তাতে একটা বিষয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। বুঝতে পারছি না, এটা পঞ্চম পে কমিশনের বেতন নাকি, ১ এপ্রিল থেকে ৪ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করেছিল, সেটা এক মাস এগিয়ে এনে মার্জ করেছে কিনা, সেটা বুঝতে পারছি না।”
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ
ফেব্রুয়ারি মাসের ৬ তারিখই সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয় রাজ্যকে ২৫ শতাংশ ডিএ দিতে হবে এরিয়ার সমেত। আর বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মেটাতে হবে ৩১ মার্চের মধ্যে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আন্দোলনকারীরা সংশয়ে ছিলেন, আদৌ এরপরও রাজ্য সরকার ডিএ মেটাবে কিনা। এর মধ্যে মার্চ মাসের ৬ তারিখ রাজ্য সরকারের তরফে নতুন করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয়, প্রথম কিস্তির ২৫ শতাংশ ডিএ এই মুহূর্তে দেওয়া সম্ভব নয়। ব্যাখ্যা হিসাবে জানানো হয়, যাঁদের নিয়োগ ২০১৬ সালের আগে, তাঁদের সার্ভিস বুক খুঁজে বার করতে অনেকটা সময় লাগবে।
বাজেটে বর্ধিত ডিএ
এদিকে, আবার ২০২৬ সালের অন্তবর্তীকালীন বাজেটে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সরকারি কর্মচারীদের জন্য আরও ৪ শতাংশ DA বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে। এই বৃদ্ধির ফলে মোট ডিএ ১৮% থেকে বেড়ে ২২% হয়েছে । প্রস্তাবিত এই ডিএ বৃদ্ধি ১ এপ্রিল, ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর হবে। এখানেই সরকারি কর্মীদের মধ্যে একটা কনফিউশন তৈরি হয়। যদিও আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বক্তব্য, এটা সরকার বকেয়া ডিএ-এই মেটানোর কথা ঘোষণা করেছে।
বকেয়া ডিএ-এই দিচ্ছে সরকার
সিপিএমের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “দিতে তো হবেই, নাহলে জেলে যাওয়ার ভয় আছে তো। বকেয়া ডিএ দিতে হবে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ। এটা অন্তত বোঝাবার চেষ্টা হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পালন করা হচ্ছে। কিন্তু এটা আদৌ কতটা কার্যকর হবে, দেখা যাক। “