
কলকাতা: শুধুই সময়ের অপেক্ষা। যে কোনও সময় ঘোষণা হয়ে যেতে পারে ভোটের দিনক্ষণ। চলছে কাউন্টডাউন। এরইমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা নিয়ে জোর চাপানউতোর। এবার তৃণমূলে এক ঝাঁক তরুণ মুখ টিকিট পেতে চলেছেন বলে জোর চর্চা রাজনৈতিক আঙিনায়। জল্পনার মধ্যেই তৃণমূল শিবিরে কান পাতলেই কিছু নাম নিয়ে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। যে নামগুলো নিয়ে এত চর্চা সেই তালিকা ইতিমধ্যেই চলে এসেছে টিভি৯ বাংলার হাতে।
তালিকায় তৃণাঙ্কুর-জয়া
সূত্রের খবর, নতুন নামের মধ্যেই শুরুতেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের নাম আলোচনায় রয়েছে। এই তৃণাঙ্কুর বরাবরই অভিষক ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। একেবারে সামনের সারিতে থেকে ছাত্র-যুব ফ্রন্টের নেতৃত্ব দিয়েছেন। আলোচনায় রয়েছে জয়া দত্তের নামও। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি। বরাবরই উপরতলার নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ। বর্তমানে অশোকনগরের কাউন্সিলর। যদিও বিতর্ক জুড়ে গিয়েছিল তাঁর নামের সঙ্গেও। আগের দশকের শেষ দিকে ভর্তিতে টাকার লেনদেন নিয়ে অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে। তারপরই জয়াকে ছাত্র সংগঠনের সভানেত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
নজরে ঋতব্রত
বিধানসভায় প্রার্থী হবেন বলে শোনা যাচ্ছে প্রাক্তন সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সিপিএম থেকে তৃণমূলে আসার পর আর খুব একটা পিছনে ফিরে তাকে হয়নি তাঁকে। ঘোরাফেরা চলেছে উপরতলার ঘনিষ্ঠবৃত্তে। এসআইআর বিরোধী আন্দোলনে কার্যত অভিষেকের ছায়াসঙ্গী হিসাবেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। সম্প্রতি আবার দলের সুপ্রিমোকে একেবারে শ্রীচৈতন্যের উত্তরসূরিও বলে বসেছিলেন। সাফ বলেছিলেন, “শ্রীচৈতন্যদেবের উত্তরাধিকারী ছিলেন লালন। লালনের উত্তরাধিকারী ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আর এখন শ্রীচৈতন্যদেবের উত্তরাধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি যে পথে চলেন তার সঙ্গে লাখো মানুষ চলেন।”
কোথায় দাঁড়াতে পারেন সামিরুল?
আরেক সাংসদ সামিরুল ইসলামও হতে পারেন বিধানসভায় দলের প্রার্থী। কিছুদিন আগেই বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর লাগাতার আক্রমণ যখন তোলপাড় চলছিল রাজনৈতিক আঙিনায়। তখন তিনি সরব হয়েছিলেন রাজ্যসভায়। তিনি বীরভূমের কোনও আসন থেকে লড়তে পারেন বলে জানা যাচ্ছে।
তালিকায় কুণাল থেকে অরূপ
দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলের যেসব মুখপাত্রদের নাম শোনা যাচ্ছে সেখানেও রয়েছে চমকের পর চমক। তালিকায় কুণাল ঘোষ থেকে অরূপ চক্রবর্তী, তন্ময় ঘোষ। শেষ উপনির্বাচনের সময় মানিকতলায় সাধন পাণ্ডের শূন্যস্থান পূরণের সময় সুপ্তি-শ্রেয়া নিয়ে চর্চার মধ্যে উঠে এসেছিল কুণালের নাম। গিয়েছেন রাজ্যসভাতে। এবার বিধানসভাতেও টিকিট পাওয়া নিয়ে জোর জল্পনা।
টিকিট পাচ্ছেন প্রতীকূরও?
এছাড়াও ‘পদের লোভে, পদের জন্য তৃণমূলে আসিনি’ বলা সদ্য সিপিএম থেকে তৃণমূলে আসা প্রতীকূর রহমানও টিকিট পাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও নতুন মুখ হিসেবে জল্পনা শোনা যাচ্ছে সেই তালিকায় রয়েছেন স্বপ্না বর্মন। জলপাইগুড়ির ক্রীড়াবিদ স্বপ্না বর্মন আসলে একজন হেপ্টাথলিট। ২০১৮ সালে এশিয়ান গেমসে হেপ্টাথলনে সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন স্বপ্না। কিছুদিন আগেই যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে।
লোকসভার পর বিধানসভাতেও দেবাংশুকে টিকিট?
তালিকায় রয়েছেন ঘাসফুল শিবিরের নেটপাড়ার হার্টথ্রব দেবাংশু ভট্টাচার্য। আগের বিধানসভা ভোটেও প্রচারে ঝড় তুলতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। টিকিট পাওয়া নিয়ে জোর জল্পনাও তৈরি হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত টিকিট পাননি। কিন্তু লোকসভায় তাঁর উপর ভরসা রেখেছিল দল। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন তমলুকে। কিন্তু হারতে হয়েছিল তাঁকে।
তালিকায় সাংবাদিক থেকে আইআইএমের প্রাক্তনী
শোনা যাচ্ছে স্বর্ণকমল সাহার ছেলে সন্দীপন সাহার নাম। স্বর্ণকমল সাহা বর্তমানে এন্টালির বিধায়ক। কিন্তু তিনি এবারে আর দাঁড়াতে চান না বলে দলকে জানিয়েছেন। খবর এমনটাই। বর্তমানে কলকাতা পুরসভার মেয়র ইন কাউন্সিলর জোকা আইআইএমের প্রাক্তনী সন্দীপন। এবার তিনিই পেতে পারেন টিকিট। শোনা যাচ্ছে সংবাদিক দেবদীপ পুরোহিত। তিনি খড়দায় দাঁড়াতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে বর্ষীয়ান তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শুভাশিস চক্রবর্তীর নাম। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগানা থেকে দাঁড়াতে পারেন।
তালিকায় পরমব্রত থেকে ইমন
এছাড়াও তারকাখচিত তালিকায় আলাদা করে আলো ছড়াতে পারে ইমন চক্রবর্তী। চর্চায় উত্তরপাড়া। শোনা যাচ্ছে এখান থেকেই তাঁকে দাঁড় করাতে পারে দল। যদিও আগেও তাঁর উত্তরপাড়ায় দাঁড়ানো নিয়ে জল্পনা হয়েছিল। তিনি যদিও এই আসন থেকে দাঁড়ানোর বিষয়ে খুব একটা ইচ্ছাপ্রকাশ করেননি। অন্যদিকে তৃণমূলের হাত ধরে তাঁর কণ্ঠে উন্নয়নের পাঁচালি এখন বাংলার দিকে দিকে। উঠে এসেছেন মমতার ‘প্রিয় বৃত্তে’।
অন্যদিকে শোনা যাচ্ছে টিকিট পেতে পারেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ও। প্রসঙ্গত, গত বছরে ফেডারেশন বনাম পরিচালক গিল্ডের লড়াইয়ের সাক্ষী থেকেছে বাংলা। সেই সময় আচমকাই সব বিবাদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন পরমব্রত। সাফ বলেছিলেন, ফেডারেশনকে তিনি নিজের ‘পরিবার’ হিসেবেই মনে করেন। আদালতের দ্বারস্থ হওয়া তাঁর মতে যথেষ্ট আবেগপ্রবণ ও ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের নেতৃত্বের প্রশংসাও করতে দেখা গিয়েছিল। শোনা যাচ্ছে রামমোহন রায়, দেবরাজ চক্রবর্তীদের নামও।