
কলকাতা : ষষ্ঠ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। দুই ধাপে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, ষষ্ঠ তালিকায় তিন লাখ ভোটারের নাম রয়েছে। তবে, কত নাম বাদ পড়েছে তা স্পষ্ট করে জানানো হয়নি কমিশনের তরফে। আগেই নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, প্রতিদিন একটি করে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হবে। সেই মতো প্রতিদিনই এসআইআর সংক্রান্ত অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। রবিবার পর্যন্ত চারটি তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল। তবে, সোমবার একইসঙ্গে দু’টি তালিকা প্রকাশ করল কমিশন।
২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। তিনটি ভাগে তালিকা প্রকাশ করা হয়। মীমাংসিত, অমীমাংসিত ও ডিলিটেড। মীমাংসিতদের তালিকায় ছিল বৈধ ভোটারের নাম। বাদ যায় প্রায় ৬১ লক্ষ নাম। আর অমীমাংসিত বা বিবেচনাধীনে রাখা হয় প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারকে। কলকাতা হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে তা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। ভোটারদের তথ্য খতিয়ে দেখছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। ২৩ মার্চ প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ হয়। তারপর শুক্রবার(২৭ মার্চ) দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করে কমিশন। পরে কমিশনের তরফে জানানো হয় প্রতিদিনই একটি করে তালিকা প্রকাশ করা হবে। সেইমতো আরও তিনটি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে।
সোমবার দু’টি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। পঞ্চম তালিকা প্রকাশের পর তারই অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। সেখানে তিন লাখ ভোটারের নাম রয়েছে। এই নিয়ে ছটি তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। সব মিলিয়ে ২৯ লক্ষের বেশি নাম রয়েছে এই ছ’টি তালিকায়। তবে, ইতিমধ্যে ৪২ লক্ষের বেশি নামের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। ১৮ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হওয়া এখনও বাকি রয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় ইতিমধ্যেই ১৮ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছে। অর্থাৎ খসড়া তালিকা থেকে ধরলে এখনও পর্যন্ত ৮১ লক্ষের বেশি নাম বাদ গিয়েছে। তবে, এখনও পর্যন্ত বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে জানায়নি কমিশন। সব নাম নিষ্পত্তি হয়ে গেলেই বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা জানা যাবে।
এদিকে, সোমবার রাতেই কলকাতায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি। অভিষেকের দাবি,ফর্ম-৬-কে কাজে লাগিয়ে বাংলায় বিহার-উত্তরপ্রদেশ থেকে লোক ঢোকাচ্ছে বিজেপি। এইভাবেই আগে মহারাষ্ট্র-হরিয়ানা-দিল্লির মতো রাজ্য তারা দখল করেছে, আর এবার বাংলাও একই পন্থায় দখল করতে চাইছে।