
কলকাতা: নজর ডায়মন্ড হারবারে। রাজ্যে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের প্রাক্কালে ডায়মন্ড হারবারকে কেন্দ্র করে নতুন রণকৌশল নিল নির্বাচন কমিশন। অতীতে একাধিক অভিযোগ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সাক্ষী থাকা এই কেন্দ্রটিকে এখন ‘মডেল’ হিসাবে ব্যবহার করে গোটা রাজ্যের অশান্ত এলাকাগুলোতে বার্তা দিতে চাইছে কমিশন। এই নতুন কৌশলের নামই দেওয়া হয়েছে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’।
কী এই মডেল?
কমিশনের এই নতুন কৌশলের মূল লক্ষ্য হল, পুলিশ ও প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ রাখা এবং দুষ্কৃতীদের ভোটদান প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা। কমিশনের বক্তব্য, কোনও পুলিশ আধিকারিক যদি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেন বা কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের সুবিধা করে দেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে শুধু সাসপেনশন নয়, নেওয়া হবে কঠোর বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (Disciplinary Proceedings)। এই হুঁশিয়ারি বার্তা রাজ্যের অন্যান্য জেলার পুলিশ আধিকারিকদের জন্যও বড় ‘টনিক’ হিসাবে কাজ করবে।
সম্প্রতি ডায়মন্ড হারবারের পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ৫ জন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিককে (যাদের মধ্যে অতিরিক্ত সুপার ও এসডিপিও-র মতো পদস্থ কর্মকর্তারা রয়েছেন) সাসপেন্ড করে কমিশন ইতিমধ্যেই সেই কড়া অবস্থানের নিদর্শন দিয়েছে। অভিযোগ ছিল, তারা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছিলেন এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের নজরদারির ভিডিও তৈরি করছিলেন।
দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভেদ
শুধু পুলিশ নয়, কমিশনের পাখির চোখ এখন এলাকার ‘দাবাং’ বা প্রভাবশালীদের ওপর। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের জন্য কমিশন রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রায় ১০০০ জন দুষ্কৃতীর তালিকা প্রস্তুত করেছে। অভিযোগ, এই ব্যক্তিরা ভোটের দিন সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখিয়ে বাড়ি থেকে বেরোতে বাধা দেয়। কমিশন জানিয়েছে, এবার এই তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের ভোটের দিন ত্রিসীমানায় দেখা যাবে না। তাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমিশনের এই অভূতপূর্ব পদক্ষেপে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়েছে। ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে কমিশনের এই ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।