
প্রদীপ্তকান্তি ঘোষ
কলকাতা: প্রয়াত হলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে এলগিন রোডের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি ছিলেন তিনি। বুধবার রাত ৯টা ৫০ মিনিট নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
দলের প্রাক্তন সাংসদের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। শোক বার্তায় তিনি বলেন, “মালদহ জেলা কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা প্রাক্তন সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী (ডালু) বাবুর প্রয়াণে আমরা গভীর শোকাহত। জনকল্যাণমূলক এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে প্রয়াত আবু হাসেম খান চৌধুরীর ভূমিকা আক্ষরিক অর্থেই প্রয়াত জননেতা এ.বি.এ. গনি খান চৌধুরীর উত্তরাধিকার বহন করেছিল। ডালু বাবু’র প্রয়াণ কংগ্রেসের পরিবারের কাছে এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমার সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। ব্যক্তিগত জীবনেও আমি শুভানুধ্যায়ী হারা হলাম। আমি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ এবং তাঁর অগণিত কর্মী সমর্থকদের প্রতি জানাই আন্তরিক সমবেদনা।” এদিন শুভঙ্কর সরকার নার্সিংহোমে এসেছিলেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে প্রয়াত প্রাক্তন সাংসদের মরদেহ মালদহ নিয়ে যাওয়া হবে। প্রদেশ কংগ্রেসের সদর দফতর বিধান ভবনে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না।
আবু হাসেম খান চৌধুরীর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আমার প্রিয় ডালুদার প্রয়াণে গভীরভাবে মর্মাহত। আমি এমন একজন মানুষকে হারালাম, যিনি আমার হৃদয়ের খুব কাছের ছিলেন। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল।” বিজেপি বিধায়ক শ্রীরূপা চৌধুরী প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন।
গনি খান চৌধুরীর ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী। ডালু নামেই পরিচিত তিনি। তাঁর জন্ম ১৯৩৮ সালের ১২ জানুয়ারি। ২০০৬ সালে গনি খান চৌধুরীর প্রয়াণের পর তাঁর ছেড়ে যাওয়া মালদহ লোকসভা আসনে উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথমবার সাংসদ হন ডালু। তার আগে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কালিয়াচকের বিধায়ক ছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে মালদহ দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতে সাংসদ হন। ২০০৪ সাল পর্যন্ত এই আসনে সাংসদ ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালে আবু হাসেমের পুত্র ইশা খান চৌধুরী এই আসনে প্রার্থী হন। এবং জেতেন।