
কলকাতা: ২০২৬-এ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তৃণমূলের টার্গেট ২১৫-রও বেশি আসনে জয়লাভ। আজ নেতাজি ইন্ডোরে কর্মিসভা থেকেই সেই টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে লড়াইটা এত সহজ নয়। কড়া টক্কর দেবে বিজেপি। ‘উইনিং স্ট্রাইকে’ রয়েছে বিজেপি। মহারাষ্ট্র, মধ্য প্রদেশ, ছত্তীসগঢ়ের পর সম্প্রতিই দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনেও জয়ী হয়েছে বিজেপি। তবে কীভাবে সেই জয়লাভ হয়েছে, তা নিয়ে নতুন তত্ত্ব খাড়া করে দিলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়।
এ দিন দলীয় কর্মীদের সতর্ক করেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ভোটার লিস্ট পরিষ্কার করতে হবে। ভয় পাবেন না। একটা এজেন্সিকে দিয়ে এই সব ভোটার তৈরি করা হয়েছে…। সম্ভবত, অ্যাসোসিয়েশন অব বিলিয়ন মাইন্ড বলে কোম্পানি আছে। কোম্পানি ইন্ডিয়া ৩৬০ নামে অনেক এজেন্সি খুলেছে। ওরা ডেটা অপারেটারদের কাছে গিয়েছে। বাংলার লোক যাতে ভোট দিতে না পারে, তাই ভোটার লিস্টে বাইরের রাজ্যের লোকের নাম তুলেছে। আধার কার্ড কেলেঙ্কারি করেছে। বাংলার এপিক কার্ডে পঞ্জাব-রাজস্থান-বিহারের লোকের নাম তুলেছে।”
তৃণমূল নেত্রী দাবি করেন, বাংলার ভোটারের তালিকায় হরিয়ানার বাসিন্দাদের নাম তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, “বহিরাগত সংস্কৃতি চলবে? এখানে জাগরণ করতে হবে। ওরা বাংলা দখল করতে চায়। গঙ্গারামপুরে ঢেলে ভোটার লিস্টে জালিয়াতি করেছে। সব জেলাতেই এমন কেস আছে। সব হরিয়ানার বাসিন্দায় ভর্তি। ভোটার লিস্টে নাম ঢুকিয়ে দিয়েছে। এইসব করে দিল্লি-মহারাষ্ট্রকে হারিয়েছে। ওরা এই খেলাটা ধরতে পারেনি। আমরা ধরেছি।”
ভোটারদের আর্জি জানিয়ে বলেন, “বাংলার মানুষকে অনুরোধ করব আপনারা প্লিজ ভোটার লিস্ট দেখে নিন। নয়ত এনআরসি-সিএএ করবে। আর নয়ত, আপনাকে ছাঁটাই করে দেবে। ডেটা অপারেটরদের লক্ষ্য রাখুন। অনেক জায়গায় মিষ্টির প্যাকেট গিয়েছে। এত চিন্তা করবেন না। ওদের আয়ু তিন মাস। বাংলায় যদি কেউ টিকে থাকে, তাহলে তা হল তৃণমূল কংগ্রেস। খেলা আবার হবে। ২০২৬-এর খেলা আরও জোরে মারতে হবে। ক্রিকেট-ফুটবল জোরে মারতে হবে। আর সেই কাজ ভোটার লিস্ট থেকে। চু কিত-কিত হবে, সুইপিংও হবে। এটা বুথ কর্মীদের করতে হবে।”