
কলকাতা: অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পরই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। আর সোমবার কলকাতা উত্তরের ডিইও, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্তা সাংবাদিক বৈঠকেও সেই কথাই বললেন। জানিয়ে দিলেন, কলকাতা উত্তরে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে নানা পদক্ষেপ করা হচ্ছে। কলকাতা উত্তরে কতগুলি অতি স্পর্শকাতর বুথ রয়েছে, তারও এদিন হিসেব দিলেন তাঁরা।
এদিন সাংবাদিক বৈঠক করেন কলকাতা উত্তরের ডিইও স্মিতা পান্ডে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর শীর্ষ আধিকারিক মনোজ কুমার। তাঁরা জানান, কলকাতা উত্তরের ৪৮ শতাংশ বুথ অতি স্পর্শকাতর। কলকাতা উত্তরে মোট সাতটি বিধানসভা রয়েছে। জোড়াসাঁকো, চৌরঙ্গি, শ্যামপুকুর, এন্টালি, কাশীপুর – বেলগাছিয়া, বেলেঘাটা এবং মানিকতলা।
এই সাতটি বিধানসভায় মোট বুথ ১৮৩৫টি। মোট ভোটকেন্দ্র ৫৮৩টি। অতি স্পর্শকাতর বুথ রয়েছে ৮৩৭টি। অতি স্পর্শকাতর ভোট কেন্দ্র রয়েছে ২৬৪টি। সাতটি বিধানসভায় মোট ভোটার ১০ লক্ষ ৭১ হাজার ৮১০।
এদিন কলকাতা উত্তরের ডিইও জানান, জোড়াসাঁকোর ৭৩ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৪টি অতি স্পর্শকাতর। চৌরঙ্গিতে ২২২ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬০টি অতি স্পর্শকাতর। শ্যামপুকুরে ২৬৪ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮০টি অতি স্পর্শকাতর। এন্টালিতে ৯৩ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৭টি অতি স্পর্শকাতর। কাশীপুর -বেলগাছিয়ার ১৪৫ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টি অতি স্পর্শকাতর। বেলেঘাটার ১১৭ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩২টি অতি স্পর্শকাতর। আর মানিকতলার ৪০ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৩টি অতি স্পর্শকাতর।
কলকাতা উত্তরে মোট কেন্দ্রীয় বাহিনী বর্তমানে রয়েছে ৪০ কোম্পানি। গোটা কলকাতায় কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে ৯৭ কোম্পানি। কলকাতা উত্তর থেকে ট্রাইব্যুনালে এখনও পর্যন্ত আবেদন জমা পড়েছে ১৪২৮টি।
ডিইও স্মিতা পান্ডে জানিয়েছেন, নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মূল কমান্ড সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। যেখান থেকে ওয়েব কাস্টিংয়ের মাধ্যমে বুথগুলোতে নজরদারি করা হবে। এতদিন বেলেঘাটা বিধানসভার অন্তর্গত এলাকাতেও একটি আবাসনে ভোটকেন্দ্র ছিল। যেখানে বিগত নির্বাচনগুলিতেও ভোট হয়েছে। নতুন করে আরও তিনটি আবাসন যুক্ত হল। যেখানে ভোটকেন্দ্র তৈরি করা হবে। মোট চারটি আবাসনে ভোটকেন্দ্র থাকছে কলকাতা উত্তরে। এবার আরও তিনটি ভোটকেন্দ্র তৈরি হচ্ছে বেলেঘাটার একটি আবাসনে এবং এন্টালির দুটি আবাসনে। এদিন, কলকাতা উত্তরের ডিইও, কলকাতার পুলিশ কমিশনার ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্তা ভোটারদের আশ্বাস দেন, অবাধ নির্বাচনের জন্য সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।