
কলকাতা: ‘বামেরা লক্ষাধিক টাকা ঋণ চাপিয়ে তলে গিয়েছে’-২০১১ সালে ক্ষমতা আসা থেকে ২০২৬-এর বিদায়ের আগে পর্যন্ত এই অভিযোগ বারেবারে করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। এবার পালা বদল হয়েছে। প্রথমবার বঙ্গে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। নতুন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। কত টাকা বকেয়া ঋণ আর বিজেপি সরকারের কাছে কী কী চ্যালেঞ্জ রেখে গেল বিদায়ী সরকার তৃণমূল?
দারিদ্র
সূত্রের খবর, রঙ্গরাজন কমিটি (২০১২-২০১৪ সাল নাগাদ এই কমিটি তৈরি হয়। ভারত সরকার কর্তৃক গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল এটি। এই কমিটি কাজ ছিল দেশে দারিদ্র্য পরিমাপের পদ্ধতি পর্যালোচনা ও সংশোধন করা)। ২০২৩ সালে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১১.৮৯ শতাংশ দরিদ্র মানুষ রয়েছেন। তবে এর হিসাব নিয়ে একটু বিতর্ক আছে। নতুন সরকার যদি শহরে দিনে ৪৭ টাকা আর গ্রামে ৩২ টাকা খরচ করতে পারে তাহলেই দারিদ্র সীমার উপরে পৌঁছনো যাবে।
ঋণ
সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ঋণ রেখে গিয়েছে ৭.৭১ লক্ষ কোটি টাকা।
শিল্প
ব্যবসায়ীদের থেকে বাংলায় লগ্নি টানতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজনেস সামিটের আয়োজন করতেন। নামজাদা বড়-বড় সংস্থা ও তার কর্নধাররা আসতেন বাংলায়। দু থেকে তিন দিন ধরে চলত আলোচনা। সারা দেশে বিদেশি বিনিয়োগে বাংলার ভাগ ০.৬ শতাংশ। আর রাজ্য ছেড়ে গিয়েছে প্রায় সাত হাজার সংস্থা।
জমি অধিগ্রহণ
বহুবার রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে অভিযোগ করতে শোনা গিয়েছে, বাংলায় রেলের আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না জমির প্রয়োজনে। সূত্রের খবর, রেলের দরকার ৪,৫৬৪ হেক্টর জমি আর রাজ্য দিয়েছে মাত্র ২৭ শতাংশ। এমনকী, কেন্দ্রের যে সকল বড় বড় পরিকাঠামোর প্রকল্প রয়েছে তার ২৯০০কোটি টাকার কোনও উপযুক্ত ব্যবহার হয়নি। ১৫০০ কোটির প্রকল্প চলছে স্লথ গতিতে।
কর্মসংস্থান
কেরল, তামিলনাড়ু, গুজরাট, দিল্লির মতো রাজ্যে বাংলার পরিযায়ীদের ভিড় সব সময় থাকে। সূত্রের খবর, কাজের জন্য বাংলা ছেড়ে ভীন রাজ্য পাড়ি দেওয়া পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে। সরকারি হিসাব বলছে এই সংখ্যাটা ২২ লক্ষ আর বেসরকারি মতে ৫0 লক্ষ তারও বেশি।
ফলে, এখন নতুন সরকারের কাছে এটাই দেখার এই সব পরিসংখ্যান আদৌ তাঁরা কমাতে পারেন, নাকি বেড়ে যায়।