
নয়া দিল্লি: হৃদয় ভেঙেছে মহুয়া মৈত্রের (Mahua Moitra)। কাকে বিশ্বাস করবেন, জানেন না। এ কথা তিনি নিজের মুখেই স্বীকারও করে নিলেন। তবে কে মন ভাঙল তৃণমূল সাংসদের? তাঁরই সতীর্থ সায়নী ঘোষ (Saayoni Ghosh)। তাঁকে নিয়ে একরাশ আক্ষেপ প্রকাশ করলেন মহুয়া। ঠিক কী হয়েছে তাদের? কেনই বা মহুয়া এত দুঃখ পেলেন?
তিনি রোদে পুড়ে হুড খোলা গাড়িতে প্রচার করেছেন। আর সায়নী প্রচার করেছেন হেলিকপ্টারে চড়ে। যে সায়নী ঘোষ জোর গলায় বলতেন, তিনি কখনও দল বদলাবেন না, সেই সায়নীই বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর এখন বিরোধী সাংসদদের শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। কাকলী ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে যে বিদ্রোহী সাংসদদের আলাদা ‘ফ্রন্ট’ তৈরি হয়েছে, তাতে সই রয়েছে সায়নীরও। আজই প্রকাশ্যে এসেছে সেই সমর্থনপত্র। তারপরই আর চুপ থাকলেন না মহুয়া মৈত্র। আক্ষেপ প্রকাশ করে বললেন, সময় থাকতে গদ্দার চিনতে পারেনি তৃণমূল।
এদিন একটি সাক্ষাৎকারে মহুয়া মৈত্র সায়নীর শিবির বদল প্রসঙ্গে বলেন, “আমায় যদি কেউ পরশু দিনও বলতেন যে সায়নী (বিদ্রোহী শিবিরে) যাচ্ছে, আমি বলতাম যে হাত কেটে নেব, তবু সায়নী যাবে না। আমি কারোর গ্যারান্টি দিইনি, কিন্তু সায়নীর গ্যারান্টি দিয়েছিলাম। আমিও ভুল প্রমাণিত হলাম।”
সায়নী ঘোষ প্রসঙ্গে অনেকেই বলতেন যে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুকরণ করেন। সেই সায়নীই আজ মমতার পাশে থাকলেন না। সায়নীর এই সিদ্ধান্তে আক্ষেপ প্রকাশ করে মহুয়া মৈত্র বলেন, “আমি ওকে নিজের বোনের মতো, নিজের সন্তানের মতো ভাবতাম। আমি সত্যি বিশ্বাস করতাম যে বিরোধী রাজনীতিতে ওঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। কারণ আমাদের দেশে বিরোধী রাজনীতি করার মানুষ খুব কম আছে। শায়েরি করার অনেক লোক আছে, হিম্মত-সাহসী মানুষ খুব কম আছে। ওঁ লড়াকু ছিল, পড়ে গেলেও উঠে দাঁড়াত। আমি পরশু অবধি ওঁর গ্যারান্টি দিয়েছি। এখন কী করা যাবে?”
বাকিরা সরে গেলেও, মহুয়া মৈত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে আছেন বলেই জানিয়েছেন। তৃণমূলের সাংসদ-বিধায়কদের এই দল ভাঙার প্রচেষ্টাকে তিনি শুদ্ধিকরণ হিসাবেই দেখছেন।