Indian Capital Dome: কলকাতার আকাশে তৈরি হবে ‘অদৃশ্য’ বলয়, দিল্লি থেকে কাজ শুরু কেন্দ্রের
India to Develop Capital Dome: প্রতিরক্ষামন্ত্রক সূত্রে খবর, প্রথম ধাপে উত্তর-পূর্বের প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার জুড়ে বসবে সুরক্ষার ছাদ। দ্বিতীয় ধাপে আসছে কলকাতা। পুরো এলাকায় মাথায় থাকবে ক্যাপিটাল ডোম। একেবারে মাল্টি লেয়ার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। যার মোট তিনটি ধাপ। প্রথম, কুইক রি-অ্যাকশন সারফেস টু এয়ার মিসাইল। দ্বিতীয়, ভেরি লো রেঞ্জ সারফেস টু সারফেস এবং তৃতীয়, এয়ার টু এয়ার মিসাইল। শক্রর হামলা আটকাতে থাকছে নিরাপত্তার ঢাল।

নয়াদিল্লি: ইজরায়েলের রয়েছে আয়রম ডোম, ভারতের জন্য তৈরি হবে ‘ক্যাপিটাল ডোম’। আকাশ-রক্ষা করবে ভারতীয় সেনার এই নতুন অস্ত্র। প্রথমে উত্তরবঙ্গ, তারপর কলকাতা এবং সবশেষে গোটা রাজ্য। ক্ষমতা রয়েছে ড্রোন-সহ যে কোনও স্বল্পমাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করার। সেনার পরিভাষায় নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্যাপিটাল ডোম এয়ার ডিফেন্স’। দেশীয় প্রযুক্তির অত্যাধুনিক আকাশ সুরক্ষা। ইজরায়েলি আয়রন ডোমের ‘দেশি ভার্সন’ বললেও ভুল হবে না।
ইহুদিভূমের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে যেমনভাবে ৩৬৫ দিন, ২৪ ঘণ্টা আকাশ সুরক্ষার আওতায় থাকে, সে ভাবেই তৈরি থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। যে কাজ শুরু হচ্ছে দিল্লি থেকে। প্রথমে দিল্লির সীমান্তবর্তী এলাকা এবং ভিআইপি জোনগুলিকে আনা হবে এই প্রতিরক্ষার আওতায়। তারপরেই আকাশ সুরক্ষার মুখ ঘুরে যাবে পূর্বের রাজ্যেগুলির দিকে। অসম, অরুণাচল, শিলিগুড়ি এবং কলকাতা।
প্রতিরক্ষামন্ত্রক সূত্রে খবর, প্রথম ধাপে উত্তর-পূর্বের প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার জুড়ে বসবে সুরক্ষার ছাদ। দ্বিতীয় ধাপে আসছে কলকাতা। পুরো এলাকায় মাথায় থাকবে ক্যাপিটাল ডোম। একেবারে মাল্টি লেয়ার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। যার মোট তিনটি ধাপ। প্রথম, কুইক রি-অ্যাকশন সারফেস টু এয়ার মিসাইল। দ্বিতীয়, ভেরি লো রেঞ্জ সারফেস টু সারফেস এবং তৃতীয়, এয়ার টু এয়ার মিসাইল। শক্রর হামলা আটকাতে থাকছে নিরাপত্তার ঢাল। যা আগে থেকে ড্রোন বা মিসাইলকে আকাশেই চিহ্নিত করতে পারবে। এর সঙ্গে জুড়ছে উন্নত সেন্সর এবং কন্ট্রোল অ্যান্ড কম্যান্ড সিস্টেম।
কিন্তু আচমকাই আকাশ-রক্ষী তৈরির কারণ কী? শুধুই প্রতিরক্ষা উন্নয়ন। একাংশ বলছেন, এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য গল্প। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে, ভারতের তিনটি ল্যাবে এই এয়ার ডিফেন্স তৈরি হচ্ছে। ২০২০ সালে গালওয়ান সংঘর্ষের পর কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নেয়, চিন ও পাকিস্তানের কথা মাথায় রেখে সীমান্তবর্তী কিছু এলাকাকে আকাশ সুরক্ষার আওতায় আনা হবে। সেই সময় আমেরিকার থেকে শর্ট রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স কিনতে আলোচনা চালাচ্ছিল প্রতিরক্ষামন্ত্রক। ভারতের তত্কালিন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ, বীপিন রাওয়াত মার্কিন এয়ার ডিফেন্সের উপর ভরসা করতে চাননি। তাঁর মতে, আমেরিকার উপর নির্ভর করাটা ঠিক হবে না। কিন্তু সেই মুহূর্তে ভারতের হাতে কোনও বিকল্পও ছিল না।
এমতাবস্থায় ২০২১ সালে অরুণাচলের ইটানগর থেকে কিছুটা দূরে এক সেনা স্কুলের বার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে গিয়েছিলেন ডিআরডিও-র একদল বিজ্ঞানী। সেখানে এক পড়ুয়ার আঁকা ছবি তাঁদের নজর কাড়ে তাঁদের। ছবিটা সম্পূর্ণ কাল্পনিক, কিন্তু বাস্তবায়নে ক্ষতি কী? ছবিতে কী ছিল? দেশের আকাশ সুরক্ষার জন্য একদল তরুণ বিজ্ঞানীকে মিসাইল ডিফেন্স তৈরির নির্দেশ দিচ্ছেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এবং বিজ্ঞানী এপিজে আবদুল কালাম। অনেকটা মিশন মঙ্গল সিনেমার সেই দৃশ্যের মতো। যেখানে মঙ্গল গ্রহে ভারতের অভিযান নিয়ে প্রয়াত কালামের সঙ্গে কথা বলছেন ইসরোর বিজ্ঞানী তথা ছবির নায়ক অক্ষয় কুমার। ক্লাস সিক্সের পড়ুয়ার আঁকা সেই ছবিটার কথা ভুলতে পারেননি ওই বিজ্ঞানীরা। ওরাই ডিআরডিও-কে প্রস্তাব দেন, দেশেই এই ধরনের একটা সুরক্ষা বর্ম তৈরি করার। প্রতিরক্ষামন্ত্রক সেই প্রস্তাব লুফে নিয়েছিল। সলতে পাকানোর সেই শুরু।
