
কলকাতা: নির্বাচন কমিশনে জবাব দেওয়ার জন্য নতুন করে সময় পেয়েছে দুই শিবির। ঋতব্রতদের আর্জি শুনে ১০ দিন সময় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। তার মধ্যেই সব তৈরি করে ফেলতে হবে। তার আগেই খেলা ঘুরতে শুরু করেছে রাজ্য রাজনীতিতে। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) সঙ্গে থাকা ৬৮ জন বিধায়কের মধ্য়ে অনেকেই ‘আমি মমতার সৈনিক’ বলে শিরোনামে আসতে শুরু করেছেন। অঙ্ক কষা শুরু হয়ে গিয়েছে কালীঘাটেও।
সুর বদল করছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-পন্থী একাধিক বিধায়ক। আর সেই সুর বদলানো বিধায়কদের তালিকা তৈরি করছে কালীঘাট। কাদের স্বাগত জানানো হবে? কাদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা হবে? সেই তালিকাই এখন থেকে তৈরি করছে কালীঘাট-তৃণমূল। ইতিমধ্য়েই কালীঘাটে ফিরেছেন কাশেম সিদ্দিকী, তৌসিফউর রহমান, আব্দুল মাতিন। সুর বদলাচ্ছেন হামিদুর রহমান, কাজল শেখ, মিনহাজুল আফরিন আজাদ সহ বেশ কয়েকজন।
২১ জুলাই বা ২৮ অগস্টের সভা থেকে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের মতো নেতারা বলেছিলেন, যাঁরা হাত ছেড়েছেন, তাঁদের আর ফেরাতে রাজি নন তাঁরা। তবে কালীঘাট শিবির বর্তমান পরিস্থিতিতে দাবি করছে, যাঁদের নেওয়া হবে না, তাঁদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যাদের নেওয়া হবে তাঁদের তালিকাও তৈরি হয়েছে। মমতাপন্থী বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমরা কাদের নেব না, সেটা ঠিক করাই আছে।”
সম্প্রতি এলাকায় যেতে পারছেন না বলে ক্ষোভ উগরে দেন শিউল সাহা। তবে ঋত শিবির ছাড়ার কথা শোনা যায়নি তাঁর মুখে। এদিকে, বুধবার বিধানসভায় গিয়ে শোভনদেবের হাত থেকে বিজয়ার মিষ্টি খেতে দেখা যায় কাজল শেখকে। নিজেকে মমতার সৈনিক বলে উল্লেখও করেন তিনি।
চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমান সম্প্রতি মমতা শিবিরে যোগ দেওয়ার কথা বলেছেন। ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে ডাক না পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রশ্ন উঠেছে, তিনিও কি সুর বদল করছেন? চাকুলিয়ার বিধায়ক মিনহাজুল আফরিন আজাদ স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন, “আমরা বিরোধী দলনেতার জন্য (ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়) জন্য সই করেছিলাম। কিন্তু আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সঙ্গে আছি। আমি ভাগের মধ্যে নেই।” হলফনামার সইয়ের ক্ষেত্রেও মমতার জন্য সই করেছেন তিনি। এলাকার লোকের থেকেও সই করিয়েছেন।