Kalyan Banerjee On Abhishek Banerjee: কল্যাণ কেন রেগে কাঁই? অভিষেকের কোন ‘অপরাধে’ এবার মমতাকেই চরম হুঁশিয়ারি শ্রীরামপুরের সাংসদের?
Kalyan Banerjee withdraws from TMC legal cases: ঘটনা বুধবার বেলার। কল্যাণ ঘটনাপ্রবাহ উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, “আমি চেম্বারে বসে রয়েছি। সাড়ে এগারোটার সময়ে একজনকে পাঠিয়েছে (অভিষেক)। যাঁকে পাঠিয়েছেন, তিনি আগে আইনজীবী সঞ্জয় বসুর সঙ্গে কাজ করতেন। তিনি এসে বললেন, একটা রিট পিটিশন ফাইল হয়েছে, সার্চ নিয়ে।"

কলকাতা: বর্ষীয়ান আইনজীবী এবং সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কলকাতা হাইকোর্ট এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালত তথা সুপ্রিম কোর্টে ওকালতি করছেন।
বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতায় আসা এবং পরবর্তী সময়ে দল ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হয়ে একাধিক হাই-প্রোফাইল ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলা লড়েছেন তিনি। মমতার উত্থানের আইনি লড়াইয়ের প্রধান সঙ্গী তিনি। সে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম হোক কিংবা রিজওয়ানুর বা ছোট আঙারিয়া কেস। বাম জমানায় আদালতে ঝড় তুলেছিলেন, প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করেছিলেন সরকারপক্ষকে। ক্ষমতার আসার পর তার ঝাঁঝ বেড়েছে আরও। তিনি প্রবীণ, বর্ষীয়ান। সংসদে তো বটেই, আইনি-মামলায় যখন কোনওভাবে বেকায়দায় পড়েছে মমতা-সরকার তাঁর তীক্ষ্ণ-কর্কষ ‘ডিফেন্স’ সদা আগলে রেখেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই তো সেদিন! গত মঙ্গলবারের কথা, যখন বিক্ষুদ্ধ সাংসদদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে বসেছিলেন, তখনও বারবার তাঁর কথায় দল তথা মমতার প্রতি সম্মান-আনুগত্যের প্রমাণ মিলেছে, ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন অভিষেকের। কিন্তু মঙ্গলবার কাট টু বৃহস্পতিবার! হঠাৎ কী হল? কেন অভিষেকের সমস্ত মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন কল্যাণ। শুধু অভিষেক নয়, মমতার আর কোনও মামলাই লড়বেন না তিনি।
ঠিক কী ঘটেছে?
মূলত সই-মামলাতেই লুকিয়ে সমস্ত জট! আর সে জট পাকতে শুরু করেছে, গত মঙ্গলবার যখন সিআইডি কালীঘাট-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালাল। কল্যাণ বলেন, “সই মামলায় সিআইডি অভিষেককে ডেকে পাঠিয়েছে, নোটিস দিয়েছে। সেটা ক্রিমিন্যাল ডিভিশনে মামলা ফাইল হয়েছে। শুক্রবার ভ্যাকেশন বেঞ্চে ২২১ সিরিয়ল নম্বরে মামলাটা ছিল। ২১৪-২১৫ পর্যন্ত মামলা শোনা হয়। জজ সাহেব আমাকে বলেছিলেন, বুধবার মামলাটা থাকবে। কাল মামলা ছিল না তালিকায়। মঙ্গলবার একাধিক জায়গায় সার্চ হয়েছে। দিদির অফিসেও সার্চ হয়েছে, সেখানেও আমি উপস্থিত ছিলাম। একটু দেরি হয়েছে।” কল্যাণ জানান, তাঁর কাছে এই মামলার এতটাই গুরুত্ব, তিনি নিজে বিচারপতিকে আলাদা করে অনুরোধ জানান। তাঁর কথায়, “কালকেও (বুধবার) বিচারপতি কৌশিক চন্দের ঘরে মেনশন করে বললাম, ম্যাটারটা খুবই আর্জেন্ট। সার্চ হয়েছে। খুবই অসুবিধার মধ্যে রয়েছি। যে কোনও মুহূর্তে অ্যারেস্ট হয়ে যেতে পারে।”
কিন্তু এরপর কী হয়?
ঘটনা বুধবার বেলার। কল্যাণ ঘটনাপ্রবাহ উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, “আমি চেম্বারে বসে রয়েছি। সাড়ে এগারোটার সময়ে একজনকে পাঠিয়েছে (অভিষেক)। যাঁকে পাঠিয়েছেন, তিনি আগে আইনজীবী সঞ্জয় বসুর সঙ্গে কাজ করতেন। তিনি এসে বললেন, একটা রিট পিটিশন ফাইল হয়েছে, সার্চ নিয়ে।” সেখানেই গোল! আইনি পরিভাষায় কল্যাণ বলেন, “আমি জানতে চাই, সার্চ নিয়ে কেন রিট পিটিশন ফাইল করলে? এটাই তো আমার সাবজেক্ট ম্যাটার অফ্ ক্রিমিন্যাল ডিভিশন। তোমার কেন একবার জানালে না রিট পিটিশন ফাইল করেছো।” কল্যাণের দাবি, তখন তাঁকে জানানো হয়, “ওপর থেকে ইনস্ট্রাকশন এসেছে। কিশোর দত্ত করছেন। আমি তখন বললাম, তাহলে আমি আর লড়ব না।” এরপরই তিনি মামলা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
ঘরে বাইরে নানান ইস্যুতে রক্তস্নাত তৃণমূল। নানান গেঁরোয় ফেঁসে অভিষেক। হাজারও সমস্যার মধ্যে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলেরই বিধায়কদের সই জাল মামলা। সেই মামলাতেও লড়ছিলেন কল্যাণ। কিন্তু তিনি সরে দাঁড়ালেন। কেবল অভিষেকের মামলা থেকে নয়, সূত্রের খবর, তৃণমূলের সমস্ত মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। অথচ তৃণমূল যখন বিদ্ধ, তখনও কল্যাণকে এক কাট্টা লড়াই করে যেতে দেখা গিয়েছে। আজ তিনি বীতশ্রদ্ধ! নেত্রীকেই দিয়ে দিলেন সোজাসাপটা আল্টিমেটাম। বললেন, “ওর হাবভাব, ওর ঔদ্ধত্য….ওর জন্য আমাদের চোর চোর শুনতে হচ্ছে। ওর জন্য জীবনহানির সংশয় তৈরি হয়েছে আমার। দিদি অভিষেককে নিয়ে চললে চলুক, আমাকে দরকার নেই। আর অভিষেককে বাদ দিয়ে যদি দিদি চলে, আমি আছি।”
