
কলকাতা: দাপুটে নেতা, একসময়ে মন্ত্রীও ছিলেন। মজার মানুষও বটে। তাঁর কথা নিয়ে একাধিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। আবার দুর্নীতির অভিযোগে জেলও খেটেছেন। কথা হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মদন মিত্রের। তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই দলের সঙ্গে যুক্ত মদন। প্রথম দিন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক তিনি। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কামারহাটি আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন। মদন মিত্রের সম্পত্তি কত? বাড়ি-গাড়িই বা ক’টা আছে মদন মিত্রের?
কামারহাটিতে অতি পরিচিত মুখ মদন মিত্র। পড়াশোনা করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। ১৯৭৬ সালে তিনি স্নাতক পাশ করেন। পেশায় তিনি সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ। হলফনামায় এমনটাই বলেছেন। তাঁর স্ত্রী গৃহবধূ।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর ২০২০-২১ অর্থবর্ষে আয় ছিল ১৬ লক্ষ ৫ হাজার ৩০০ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে তার আয় কমে ৬ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকায় পৌঁছয়। ২০২২-২৩ সালে তা আরও কমে ৬ লক্ষ ৪৩ হাজার ৯০০ টাকা এবং ২০২৩-২৪ সালে সামান্য বেড়ে ৬ লক্ষ ৫৮ হাজার ১৯০ টাকা হয়েছে। সেখানেই ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে মদন মিত্রের আয় সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লক্ষ ৬২ হাজার ৭৯০ টাকায়।
তবে তাঁর স্ত্রী অর্চনা মিত্রের আয় ২০২০-২১ সালে ছিল ২১ হাজার ৪০ টাকা, তা এখন বেড়ে ৭২ হাজার ৮৩০ টাকায় পৌঁছেছে। মাঝের বছর গুলিতে তাঁর আয় ৩ লাখ থেকে ৬ লাখের মধ্যে ছিল।
হলফনামা অনুযায়ী, মদন মিত্রের হাতে ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা নগদ রয়েছে। তাঁর স্ত্রী অর্চনা মিত্রের হাতে ১৫ হাজার ৮৫০ টাকা নগদ রয়েছে। একাধিক ব্যাঙ্কে টাকা জমা রয়েছে। বিনিয়োগও রয়েছে প্রচুর। পিপিএফে তাঁর ৬০ লক্ষ ৩৪ হাজার ৬২৪ টাকা রয়েছে। কোনও ব্যাঙ্কে ৮ লক্ষ টাকা, কোনও ব্যাঙ্কে ৫ লক্ষ টাকা, কোনও ব্যাঙ্কে আবার ৯০ হাজার টাকা রয়েছে। এলআইসি পলিসি রয়েছে সাড়ে ৭ লাখ টাকার।
মদন মিত্রের নিজের কাছে ৭৫ গ্রাম সোনা-রুপোর গহনা আছে, যার বাজারমূল্য ১০ লক্ষ ১২ হাজার টাকা। তৃণমূল নেতার নামে একটি মারুতি সুজুকির জিমনি গাড়ি রয়েছে, যা ২০২৪ সালে কিনেছেন। এই গাড়ির দাম ১২ লক্ষ ৯৮ হাজার ৬৫০ টাকা। সবমিলিয়ে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ৬৮ লক্ষ ৫৬ হাজার ৮৪৫ টাকা রয়েছে।
মদন মিত্রের স্ত্রীর নামে একটি স্করপিও গাড়ি রয়েছে, যার মূল্য ৭ লক্ষ ৮ হাজার টাকা। মদনের স্ত্রীর কাছে ২৪৪ গ্রাম সোনা-রুপোর গহনা আছে, যার বাজারমূল্য ৩২ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা। তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৭৪ লক্ষ ৪৪ হাজার ৪৬৮ টাকা।
স্থাবর সম্পত্তি বলতে কোনও জমি-জমা নেই মদন মিত্র বা তাঁর স্ত্রীর নামে। রয়েছে শুধু দুটি বাড়ি। এই দুই বাড়ির মোট আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।
ব্য়াঙ্কে ঋণ রয়েছে মদন মিত্রের। লোন রয়েছে ১৪ লক্ষ ৭৭ হাজার ৫০৯ টাকার। তাঁর স্ত্রীর নামে ১০ লক্ষ ২২ হাজার ৩২৮ টাকার ঋণ রয়েছে। আয়ের উৎস হিসাবে বিধানসভার বেতন ও ব্যাঙ্কের সুদ উল্লেখ করেছেন মদন মিত্র। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রীর আয় পুরোটাই হয় ব্যাঙ্কের সুদ থেকে।
মদন মিত্রের বিরুদ্ধে একাধিক আইনি মামলা রয়েছে। ইডি, সিবিআইয়ের মামলা রয়েছে আর্থিক তছরুপ মামলায়।