
কলকাতা: পীরজাদা পরিবারের সন্তান। ফুরফুরা শরিফের প্রতিষ্ঠাতা পীর মহম্মদ আবু বকর সিদ্দিকীর নাতি নওশাদ। বিগত পাঁচ বছরে রাজ্য রাজনীতিতে নিজেকে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছেন তিনি। সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী হিসেবে তিনিই ছিলেন একুশের একমাত্র বিধায়ক। পথে পড়ে থেকে রাজনীতি করেছেন। বিক্ষোভে-প্রতিবাদে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পাঁচ বছরে অনেকটা পথ পেরিয়েছেন তিনি। সম্পত্তির অঙ্কে পাঁচ বছরে কী পরিবর্তন হল নওশাদের।
২০২৬-এর নির্বাচনে মনোনয়ন পেশ করেছেন তিনি। সেই অনুযায়ী, নওশাদের সম্পত্তি, আয় গতবারের তুলনায় বেড়েছে অনেকটাই।
২০২০-২০২১ অর্থবর্ষে নওশাদের আয় ছিল ১৪ লক্ষ ৯ হাজার ২৬৮ টাকা। পরের বছর সেই আয় বেশ কিছুটা কমে হয়েছে ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার ১৯০ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে বিধায়কের আয় ছিল ৫ লক্ষ ১ হাজার ৫৩০ টাকা। পরের বছর সেই অঙ্ক আরও খানিকটা কমে হয় ৪ লক্ষ ৮৭ হাজার ২৮০ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে নওশাদের আয় ছিল ৬ লক্ষ ৬১ হাজার ৪৭০ টাকা।
নগদ ৫০ হাজার ৬০০ টাকা আছে নওশাদের কাছে। এছাড়া একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রয়েছে বেশ কিছু টাকা। এর মধ্যে একটি ব্যাঙ্কে রয়েছে ১১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা, অপর একটি ব্যাঙ্কে আছে ৪ লক্ষ ১১ হাজার ৯৪৭ টাকা। নওশাদের কাছে একটিই গাড়ি রয়েছে। স্করপিও এস ১১ মডেলের ওই গাড়িটির দাম ১৭ লক্ষ ১০ হাজার। কোনও মূল্যবান গয়না তাঁর কাছে নেই বলেই মনোনয়নে উল্লেখ করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৩৩ লক্ষ ৫০ হাজার ৭২ টাকা। স্থাবর সম্পত্তি অর্থাৎ বাড়ি বা জমি কিছুই নেই নওশাদের নামে।
মাসিক বেতন হিসেবে নওশাদ পান ২ লক্ষ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার ডিগ্রির কথা উল্লেখ করেছেন নওশাদ।
গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিধায়ক ছিলেন না নওশাদ। ২০২১-এই রাজনৈতিক জীবনে হাতেখড়ি তাঁর। সেই সময় ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে যে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন তিনি, তাতে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি ছিল মাত্র ২ লক্ষ ৯৩ হাজার ৮১০ টাকার। সেটাই এবার বেড়ে হয়েছে ৩৩ লক্ষ। সেই সময় কোনও গাড়িও ছিল না তাঁর। তবে গতবারের নমিনেশনে ১৯ লক্ষ টাকার স্থাবর সম্পত্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, যা এবার নেই।