
কলকাতা: চোরবাগানে দুর্ঘটনার পর রবিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বৈঠক করল পুজো কমিটিগুলি। ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের উদ্যোগে এই সভায় প্রায় শতাধিক পুজো কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিতি ছিলেন। সেখানে দুর্গাপুজোর আগামী ৭২ ঘণ্টা সুষ্ঠু, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সকল পুজো কমিটিকে সেই সিদ্ধান্তগুলি যথাযথভাবে পালন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
কী কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে?
এদিন ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের এই বৈঠকে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তগুলি হল-
১. প্রতিটি মণ্ডপের প্রবেশপথে স্বেচ্ছাসেবক অথবা ক্লাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যকে উপস্থিত থাকতে হবে।
২. প্রতিটি ক্লাবকে ১০টি করে রেইনকোট রাখতে হবে। রেইনকোটের খরচ ফোরাম ফর দুর্গোৎসব বহন করবে।
৩. দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে প্রতিটি ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবকদের আরও সক্রিয়ভাবে রাস্তায় দায়িত্ব পালন করতে হবে।
৪. মণ্ডপের ভিতরে সেলফি তোলা বা ভিডিয়ো করা যাবে না, এই বিষয়ে পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমের মাধ্যমে নিয়মিত ঘোষণা করতে হবে।
৫. বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্লাবের ব্যাচ পরে অন্যত্র ঠাকুর দেখতে না গিয়ে প্রত্যেক সদস্যকে নিজের পাড়ার পুজোয় উপস্থিত থেকে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে হবে।
৬. রাস্তায় কোনওরকম গর্ত করা যাবে না। কোথাও গর্ত থাকলে দ্রুত তা বুজিয়ে নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে।
৭. প্রতিটি জোনে ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের পক্ষ থেকে অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে জোনাল সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
৮. পুজো পরিচালনা, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে প্রতিটি ক্লাবকে প্রশাসনের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
৯. কোনও পুজো কমিটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করতে চাইলে ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
১০. মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশানুসারে সমস্ত ক্লাবকে ওয়াকিটকি রাখতে হবে।
দুর্গাপুজো যাতে নির্বিঘ্নে হয়, তার জন্য এদিনের বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি কঠোরভাবে মানার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়। দর্শনার্থীরাও যাতে মণ্ডপের ভিতরে সেলফি তোলা থেকে বিরত থাকেন, তার জন্যও সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানাচ্ছে ফোরাম ফর দুর্গোৎসব।