
কলকাতা: কলকাতার লোকভবন এ শপথ নিলেন পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করালেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু প্রমুখ। লোকভবন অর্থাৎ সাবেক রাজভবনের ইতিহাস বলছে, সাধারণ রাজভবনের য়ে কোনও অনুষ্ঠানে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান হিসাবে বিমান বসুর কাছেই নিমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়। সে নিমন্ত্রণ প্রতিবারই গ্রহণ করে এসেছেন বিমান বসু। এবারও তাঁর ব্যতিক্রম হয়নি। লোকভবনের ভিতরের ছবিতে দেখা গেল, পরপর তিনটি আসনে ক্রমান্বয়ে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। কিন্তু এবারে তাঁর আসন নিয়েও মন্তব্য করতে দেখা গেল তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষকে। তাঁর বক্তব্য, বিমান বসু যে আসনে বসেছিলেন, আদতে সেই আসন তাঁর জন্য নির্ধারিতই ছিল না। বরং বিমান বসু যে সেই আসনে বসতে পারলেন, সেটা মুখ্যমন্ত্রীরই সৌজন্য।
কুণালের বক্তব্য, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু যে আসনে বসেছিলেন, সেটি ছিল মূলত মেয়র ফিরহাদ হাকিমের জন্য নির্ধারিত। তিনি রাজ্যপালের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আসেননি। তাই তাঁর চেয়ার খালি ছিল। বিমান বসুর জন্য সেই চেয়ার থেকে তাঁর নাম সরিয়ে বিমান বসুকে বসিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজের সামাজিক মাধ্যমে এই গোটা ঘটনাপ্রবাহ উল্লেখ করে পোস্ট করেছেন কুণাল। সঙ্গে ছবিও। আর সেখান থেকেই সিপিএমের দিয়েছেন সৌজন্যের পাঠ।
কুণাল লিখেছেন, “সৌজন্য। মেয়র আসবেন না। তাঁর নাম সরিয়ে বিমান বসুকে বসতে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ রাজভবনে, রাজ্যপালের শপথ অনুষ্ঠানে।” এখানেই শেষ নয়, সিপিএমকে বিঁধে কুণালের বক্তব্য, ” সিপিএম দেখেও শেখে না, ঠেকেও শেখে না। শুধু মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেরেব্বাজিতে আছে ওরা।”
এখানেই শেষ নয়। লোকভবন থেকে বেরনোর পরের ঘটনাপ্রবাহও উল্লেখ করেন তিনি। কুণালের দাবি, বিমান বসুর গাড়ি তখনও আসেনি। তিনি গাড়ির জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। সে সময়েই বেরিয়ে এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজের গাড়ি আসতে বারণ করে অপেক্ষা করেন। বিমান বসুর গাড়ি আসার পর তাঁকে গাড়িতে তুলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রওনা দেন। কুণাল লেখেন, ” অনুষ্ঠান শেষে বেরনোর সময় মুখ্যমন্ত্রী দেখেন বিমানবাবু গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে। মুখ্যমন্ত্রী নিজের গাড়ি আগে আসতে বারণ করে বিমানবাবুর গাড়ি আগে পাঠাতে বলেন। গাড়ি এলে তাঁকে তুলে দেন। বিমানবাবু বলেন,’ থ্যাঙ্ক ইউ।’ এরপর নিজের গাড়ি আনিয়ে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী।”
বিমান বসু ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক মূলত কঠোর রাজনৈতিক বিরোধিতা-র উপর দাঁড়ানো। ইতিহাসে বহু সংঘাত থাকলেও জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি-বিরোধী অবস্থানের কারণে মাঝে মাঝে বক্তব্যে কিছু মিল দেখা গিয়েছে। বঙ্গ রাজনীতিতে বহুল পরিচিত একটি শব্দ ‘ফিশ ফ্রাই’ রাজনীতির প্রেক্ষাপটেও দাঁড়িয়ে এই দুই বর্ষীয়ান রাজনীতিক। বিমান বসু এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি অনুষ্ঠানে একসঙ্গে বসে ফিশ ফ্রাই খেয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সে সময়েও ব্যাখ্যা ছিল, রাজনীতিতে বাইরে তীব্র লড়াই থাকলেও ভেতরে নরম সম্পর্ক বা সৌজন্যতা থাকে। সেই সৌজন্যতা ধরা পড়ল এদিন লোকভবনের অন্দরেও।
কিন্তু সেই বিষয়টিকেই সামনে এনে সিপিএমকে বিঁধতে ছাড়লেন না কুণাল ঘোষ। সিপিএমের বর্তমান প্রজন্মের নেতাদের উদ্দেশে বার্তা দিলেন, “সিপিএম দেখেও শেখে না, ঠেকেও শেখে না।”