
কলকাতা: নির্বাচনে বড়সড় বিপর্যয়ের পর থেকে তৃণমূলের দিকে নজর রয়েছে সব মহলের। কোনও নেতার গলায় আক্ষেপ, কোনও নেতার গলায় বিদ্রোহের সুর। কেউ কেউ আবার সব অতীত ভুলে দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। এই আবহেই ইঙ্গিতবাহী পোস্ট কুণাল ঘোষের। কচ্ছপের ছবি পোস্ট করে একটি বার্তা দিয়েছেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। বিশ্ব কচ্ছপ দিবস হিসেবে এই পোস্ট করেছেন তিনি। তবে তাঁর পোস্টটির পিছনে অন্য ইঙ্গিত পাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কুণাল লিখেছেন, “কচ্ছপদের ভালো রাখুন। ওরা দীর্ঘদিন বাঁচে, অনেক বয়স পর্যন্ত। সিনিয়রিটিকে সম্মান দিয়ে চলুন। তাঁদের দেখে শিখুন। খোলসটা ব্যবহার করুন। ঝামেলা দেখলে খোলসে ঢুকে থাকুন। খোলসের ভিতর থেকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করুন। বাইরের ঝামেলা একটু কমলে খোলস থেকে বেরন। আগে মুখ বাড়িয়ে দেখে নিন কোন দিকে হাঁটবেন। তারপর সুবিধেমতো চলুন।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কুণাল দলের একাংশকেই বার্তা দিতে চেয়েছেন। যে সব নেতা-নেত্রীরা হারের পর চুর করে আছেন, কোনও বিষয়েই মুখ খুলছেন না, তাঁরা কি আদতে ‘খোলসে’র ভিতর থেকে জল মাপছেন? তাঁদেরকেই কি খোঁচা দিলেন কুণাল? উল্লেখ্য, সম্প্রতি কুণাল সহ দলের নবীন নেতাদের মুখে আত্মসমালোচনার কথা শোনা গিয়েছে।
বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার পর কুণাল ঘোষ মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, তাপস রায়, সজল ঘোষদের মতো নেতাদের ধরে রাখতে পারেনি তৃণমূল। সন্দীপন সাহার মতো নবীন বিধায়ককেও কার্যত বিদ্রোহী হতে দেখা গিয়েছে। তাই রাজনৈতিক মহল মনে করছে, কুণাল কি প্রবীণ নেতাদের কটাক্ষ করতে চাইলেন?
তবে কুণাল বলছেন, এটা নিছকই কচ্ছপকে ভালোবেসে একটা পোস্ট করেছেন তিনি। বেলেঘাটার বিধায়ক বলেন, “আমি বণ্যপ্রাণ, গাছ-গাছালি পছন্দ করি। ওদের একটা স্টাইল আছে। চারপাশের আবহাওয়া দেখে, গোলমাল বেড়ে গেলে খোলসের ভিতর ঢুকে যায়। আবার টাইম মতো উঁকি মেরে দেখে বেরিয়ে আসে। ওদের এই যে লাইফস্টাইল, এই যে জীবন দর্শন, সেটা শেখার মতো।” বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “উনি অনেক বড় কেউ নন, যে তাঁর পোস্ট নিয়ে ভাব সম্প্রসারণ করতে হবে। মানুষের এসব নিয়ে কোনও কৌতূহলও নেই।”