
কলকাতা: নতুন সরকারের অষ্টাদশ বিধানসভার প্রথম অধিবেশন।সাধারণত বিধানসভা অধিবেশনের ভিতরে ঠিক কী হয়, ঠিক কতটা বাদানুবাদ, ঠিক কতটা তপ্ত হয় পরিস্থিতি, আবার কখনও অম্ল মধুর কথা হয়, বিধানসভার অন্দরে শাসক-বিরোধী বিধায়কদের তরজা কখনও আমজনতার কাছে স্পষ্ট থাকে না। কিন্তু এবার হল লাইভ টেলিকাস্ট। কিন্তু এবার ধরা পড়ল একটা নজিরবিহীন ছবি। শাসক বিরোধী তো বটেই, এবার আবার বিরোধী বনাম বিরোধী তরজাও উঠল তুঙ্গে। নেপথ্যে মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রথম থেকেই খোঁচা দিলেন। বিধানসভায় ধরা পড়ল কালীঘাট তৃণমূল বনাম ঋতব্রত তৃণমূল।
কুণাল বলেন, “রাজ্যপালের ভাষণে লেখা রয়েছে। মহিলা নিগ্রহে জিরো টলারেন্স। কিন্তু বালুরঘাটে যে ধর্ষণের মামলা ঋতব্রতর, মহিলার ভিডিয়ো রয়েছে।” কীভাবে ধর্ষণের অভিযুক্ত বিরোধী দলনেতা হন, সে প্রশ্নও তোলেন কুণাল। স্পিকারে উদ্দেশে বলেন, “আমি বলার সময়ে আপনাদের লোকেরা বাধা দেবে, তাহলে কে লড়াই করবে?” কুণাল যখন এসব কথা বলছিলেন, সে সময়ে বিধানসভায় অত্যন্ত চিৎকার চেঁচামেচি হতে থাকে।
বিধানসভার পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, “প্রথাগত প্রক্রিয়ায় আমরা বিধায়করা মেড ইন স্পিচ রাখছেন। রাজ্যপালের ভাষণ থেকে বক্তব্য রাখুন। সৌজন্যতা বজায় রেখে। অনুরোধ করব, মেড ইন স্পিচে দুপক্ষই সৌজন্য রেখে কথা বলুক। ৫ বছর বিধানসভা চলবে। আমরা অনেকবার বক্তব্য রাখবার সুযোগ পাব। কুণালবাবু সহ সকলের কাছে অনুরোধ, যাঁরা প্রথম বক্তব্য রাখছেন, তাঁদের অনুরোধ, রাজ্যপালের বক্তব্যের মধ্যে থাকুন, কিন্তু ব্যক্তিগত বিষয় টেনে নিয়ে আসা উচিত নয়।” স্পিকার কুণালকে সতর্ক করে বললেন, “অনর্থক বিষয় টানবেন না।”
ঋতব্রত শিবিরকে খোঁচা দিয়ে কুণাল আরও বলেন, “যে শিবির তৈরি হয়েছে, সেখানে যদি কারোর বিরুদ্ধে NIA গিয়ে থাকে, কৃষি জমি দখলের অভিযোগ, বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ, ইডি কেস থাকে, তাঁর বিরুদ্ধেও তদন্তটা চলবে তো?” আর একথা বলতে গিয়েই ঋতব্রতপন্থীদের ‘বেইমান’ বলে আরও একবার দাগিয়ে দেন তিনি। কুণাল বলেন, “স্যর, এখনও হাতের আঙুলের কালি যায়নি, আমি খারাপ হতে পারি, আমরা হেরে যেতে পারি, কিন্তু আমরা বেইমান নই।”
কুণালের বক্তব্যের সিংহভাগ জুড়েই ছিল ঋতব্রত ও তাঁর অনুগামীদের খোঁচা। বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃণমূল বনাম তৃণমূল, বিধানসভায় বিরোধী বনাম বিরোধীর এহেন নজির আগে কখনও বাংলায় ধরা পড়েনি। বিরোধী দলের ভূমিকা সাধারণত শাসকের বিরোধিতা! কিন্তু এদিন দেখা গেল বিরোধী দলের এক পক্ষ আক্রমণ শানাচ্ছেন ওই দলেরই আরেক শিবিরের দিকে। যা বিধানসভার ইতিহাসে প্রথম।
বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “শক্তিশালী বিরোধী দল গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত হওয়া উচিত। কিন্তু যাদের নীতিটাই ছিল দুর্নীতির, তাদের ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর যা হয়, সেটাই বাংলা দেখছে।”
সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলছেন, “বাংলায় রাজনীতির আদলটাই বদলে গিয়েছে। বিরোধীদের কার্যত বিরোধীহীন করে দেওয়ার চেষ্টা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করেছিলেন, তাঁর যোগ্য শিষ্য ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার সেটাই হচ্ছে।”