
কলকাতা: লোকসভা ভোটে বাংলায় একাধিক ইন্দ্রপতন হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন বিজেপির দিলীপ ঘোষও। ১ লাখ ৩০ হাজার ভোটে হেরেছেন তৃণমূলের কীর্তি আজাদের কাছে। তারপর থেকেই দিলীপ ঘোষকে নিয়ে চর্চার অন্ত নেই। এক্স হ্যান্ডেলে দিলীপ ঘোষ সওয়াল করেছেন দলের পুরনো কর্মীদের হয়ে। প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব বুঝিয়েছেন দিলীপ। এদিকে ভোটে হারের পর তাঁকে এ কথাও বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘চক্রান্ত এবং কাঠিবাজি রাজনীতির অঙ্গ।’ একের পর এক এমন ইস্য়ু ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
ভোট পরবর্তী সময়ে দিলীপ ঘোষ তৃণমূলে যেতে পারেন কি না, তা নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। এই নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল তৃণমূলের প্রথম সারির নেতা তথা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে। তিনি অবশ্য এই প্রশ্নে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। ব্রাত্যর বক্তব্য, “দিলীপ ঘোষ আমাদের দলে আসবেন কি আসবেন না, সেটা দিলীপ ঘোষ ও আমাদের দলের নেতৃত্বের ব্যাপার। আমার এখানে কোনও বক্তব্য নেই। আলিপুরদুয়ার, বাগদার বিধায়করা যখন দলে এসেছেন, নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেই এসেছেন। এবার বিষ্ণুপুরের সাংসদ যদি আসেন, বর্ধমান-দুর্গাপুরের হেরো প্রার্থী যদি আসতে চান… আসলে আসবেন… সেটা নেতৃত্বের ব্যাপার। এটা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই।”
দিলীপ ঘোষে নির্বাচনে পরাজয়ের পর যে ‘চক্রান্ত ও কাঠিবাজির তত্ত্ব’ তুলে ধরেছেন, সেই নিয়েও মন্তব্য করেছেন ব্রাত্য বসু। তাঁর কথায়, “তার মানে ওঁর কাঠি প্রতিরোধ করার জন্য কোনও কঞ্চি বা বাঁশ ছিল না। উনি বেকার লাঠি-গদা হাতে ঘুরে বেরিয়েছেন।”
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, বাংলার রাজনীতিতে এমন দলবদলের ইতিহাস রয়েছে প্রচুর। মুকুল রায় থেকে শুরু করে অধুনা বিশ্বজিৎ দাস, কৃষ্ণ কল্যাণী, সুমন কাঞ্জিলাল, অর্জুন সিং… এমন অনেকে রয়েছেন তালিকায়।
যদিও এক্স হ্যান্ডেলে ওই পোস্ট ঘিরে দিলীপ ঘোষের ব্যাখ্যা, এই পোস্টটি সময়োপযোগী বলেই তাঁর মনে হয়েছে। তিনি বলেন, “এই কথা আমি বলিনি। এটা অটল বিহারী বাজপেয়ীর কথা। আমাকে কেউ পাঠিয়েছিল, আমার মনে হয়েছে এটা সময়োপযোগী। যখন সঙ্কট আসে, তখন সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হয়। যখন বিভ্রান্তি আসে, তখন গোড়ায় ফিরে যেতে হয়। অটলজি যেটা বলেছেন, সেটা যেন আমরা ভুলে না যাই। সেটাই মনে করিয়ে দিয়েছি।”