AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Mamata on President: ‘আপনি দেশের ১ নম্বর চেয়ার… ৫০ বার এলে আমি কী করে যাব, অত টাইম আছে?’, রাষ্ট্রপতিকে বললেন মমতা

Mamata Banerjee: 'বিজেপির পলিটিক্স বেচতে এসেছেন।' রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে এ কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাষ্ট্রপতি রাজনীতি করতে এসেছেন, তাঁর কাছে বিজেপিই প্রায়োরিটি- এমন মন্তব্যও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

Mamata on President: 'আপনি দেশের ১ নম্বর চেয়ার... ৫০ বার এলে আমি কী করে যাব, অত টাইম আছে?', রাষ্ট্রপতিকে বললেন মমতা
Image Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Mar 07, 2026 | 8:33 PM
Share

কলকাতা: রাজ্যে এসে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন খোদ রাষ্ট্রপতি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহারে যে তিনি অসন্তুষ্ট, তা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছেন। এবার তাঁকে দীর্ঘ জবাব দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার এক বিশেষ অনুষ্ঠান উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু রাজ্যে এলেও তাঁকে স্বাগত জানাতে যাননি মুখ্যমন্ত্রী। এদিন সন্ধ্যায় মেট্রো চ্যানেলের ধরনা মঞ্চ থেকে না যাওয়ার কারণটা বুঝিয়ে দিলেন মমতা।

রাষ্ট্রপতি যখন কোনও রাজ্যে সফরে যান, তখন তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভার কেউ স্বাগত জানান। এটাই রীতি। এটাই প্রোটোকল। শনিবার গোঁসাইপুরে আদিবাসীদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সেই প্রোটোকলের কথা মনে করিয়ে দেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।

তাঁকে জবাব দিয়েই শনিবার সন্ধ্যায় ধরনা মঞ্চ থেকে মমতা বলেন, “সারাদিন যদি কেউ না কেউ আসে… কোনও দিন এ কোনও দিন বি আসছে, আমাদের কাজকর্ম নেই নাকি! সারাদিন পিছনে পিছনে ঘুরে বেড়াতে হবে? বছরে একবার আসুন না, আমরা রিসিভ করব। ৫০ বার এলে, আমার টাইম আছে এত? মানুষের জন্য ধর্নায় আছি। যাব কী করে! কোনটা আমার প্রায়োরিটি? আপনার প্রায়োরিটি বিজেপি, আমার প্রায়োরিটি মানুষ।”

এদিন শিলিগুড়ি মহকুমার গোঁসাইপুরে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি মঞ্চে এলেও সার দিয়ে ফাঁকা আসন ছিল দর্শকাসন। এদিকে উদ্যোক্তারা প্রথমে জানিয়েছিলেন এই কনফারেন্স হবে বিধাননগরে। কিন্তু তারপরেও চারবার সভাস্থল বদল করা হয়। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার কারণে বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছে গোঁসাইপুরে সভা করার অনুমতি মেলে। সেখানে দাঁড়িয়ে এদিন রাষ্ট্রপতি বলেন, “কেন রাজ্য সরকার আমাকে সভা করতে দিল না? এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর নাম করে তিনি বলেন, উনি আমার ছোট বোনের মতো। কিন্তু হয়তো কোনও কারণে উনি আমার উপর রুষ্ট হয়েছেন।”

এর জবাব দিতে গিয়ে মমতা বলেন, “রাষ্ট্রপতিকে আমরা সম্মান করি। তাঁকে দিয়েও পলিটিক্স বেচতে পাঠানো হয়েছে। অ্যাজেন্ডা বেচতে পাঠানো হয়েছে। সরি ম্যাডাম। বিজেপির নির্দেশে এটা হয়েছে। আপনি বলেছেন, আমরা কাউকে যেতে দিইনি। এটা আমাদের প্রোগ্রাম নয়। এটা তো আমরা জানিই না। কবে আসবেন, কবে যাবেন, সেটুকু তথ্য শুধু থাকে।”

আদিবাসীদের অনুষ্ঠানে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে এদিন অভিযোগ তোলেন দ্রৌপদী মুর্মু। এর জবাবেই মুখ্যমন্ত্রী আদিবাসীদের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন এদিন। সরাসরি রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে বলেন, “আপনি কীভাবে জানলেন আদিবাসীদের জন্য কোনও কাজ হয়নি? মণিপুরে যখন অত্যাচার হচ্ছিল, তখন আপনি চুপ করেছিলেন কেন? বিজেপি আপনাকে বারণ করেছিল? রাজস্থানে হলে প্রতিবাদ করেন না কেন?”

অলচিকি ভাষায় পড়াশোনার সুযোগ থেকে শুরু করে এসটি পড়ুয়াদের জন্য কী কী দিয়েছে রাজ্য সরকার, সে কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আগে কিছু করুন, তারপর বিজেপির হয়ে কথা বলুন। আপনি দেশের এক নম্বর চেয়ারে বসেন। আপনার প্রতি আমি সম্মান জানাই। বিজেপির নির্দেশে রাজনীতি করবেন না। সমালোচনা করুন, কোনও অসুবিধা নেই।” রাষ্ট্রপতির কাছে মমতার প্রশ্ন, “এসআইআর নিয়ে কিছু বললেন না কেন? জানেন কত আদিবাসী মানুষের নাম বাদ পড়েছে?” আদিবাসীদের উন্নয়নের রিপোর্ট রাষ্ট্রপতির হাতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডেরেক ও ব্রায়েনকে নির্দেশ দিয়েছেন মমতা।