
কলকাতা: দুপুর বেলা নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সারলেন তৃণমূলের মহাসমাবেশ। এরপরই সেখান থেকে গিয়ে যোগ দিলেন নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের আট তৃণমূল কাউন্সিলরের বিশেষ বৈঠকে।
বৃহস্পতিবার, মহাসমাবেশ থেকে অভিষেকের সুরে সুর মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ছাব্বিশের নির্বাচনে ২১৫ আসনের নীচে কোনও মতেই নামা যাবে না। আর মহাসমাবেশ থেকে সেই বার্তা দেওয়ার পরেই তিনি চলে যান ভবানীপুরে আট কাউন্সিলরের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করতে। সেই বৈঠকে কিন্তু উপস্থিত ছিলেন ভবানীপুর বিধানসভার অন্তর্গত ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। এছাড়াও ছিলেন সুব্রত বক্সীর ভাই সন্দীপ বক্সী। ছিলেন ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসীম বসু, দেবলীনা বিশ্বাস, কাজরী বন্দ্যোপাধ্য়ায়-সহ বেশ কয়েকজন।
কী কী বিষয়ে হল আলোচনা? সূত্রের খবর, ভবানীপুরের উন্নয়ন, পাশাপাশি, সকল প্রকল্পের সুবিধা পুরসভার মানুষরা পাচ্ছেন কিনা সেই বিষয়ে খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও, ভোটার তালিকা নিয়ে রাজ্যজুড়ে চলা গোলযোগ নিয়েও সেই বৈঠকে কথা তোলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। দ্রুত ভোটার তালিকার স্ক্রুটিনির নির্দেশ দেন কাউন্সিলরদের।
গত লোকসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রের কিছু পুর এলাকা থেকে বিরাট মার্জিন ভোট পেয়েছিল বিজেপি। পরিসংখ্য়ান অনুযায়ী, মোট ৫টি পুর এলাকায় এগিয়ে ছিল তারা। অন্যদিকে, তৃণমূল জিতেছিল মাত্র তিনটি। সামনেই ছাব্বিশের নির্বাচন। লক্ষ্যমাত্রা ২১৫কে ধরে রাখতে এখন প্রতিটা ভোটই গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূলের কাছে। এই পরিস্থিতিতে ভবানীপুরে তলে তলে বাড়ন্ত বিজেপির ভোটে এখন রাশ টানতে ও সংগঠনকে আরও মজবুত করতেই আয়োজন হয়েছিল এই বিশেষ বৈঠকের।
উল্লেখ্য, গত বছর থেকেই পুর এলাকাগুলি সংগঠনকে মজবুত করতে নেমে পড়েছে তৃণমূল। মূলত, লোকসভা ভোটের পর অনুসন্ধানে দেখা গিয়েছে, কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪৭টিতে পিছিয়ে শাসকদল। যা নিয়ে মমতার সঙ্গে বেশ কয়েকবার নাকি বৈঠকেও বসেছিলেন ববি। সামনেই আরও বড় পরীক্ষা। আরজি করের মতো ইস্যু যা উত্তপ্ত করেছিল গোটা কলকাতাকে, সেই সব অস্বস্তি পেরিয়ে নতুন নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে রাজ্য়ে। এই পরিস্থিতি সংগঠনকে মজবুত করার মাধ্যমেই ক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব, তা ভালই টের পাচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব।