
কলকাতা: ‘বিনাশকালে বুদ্ধি নাশ, বিনাশ কালে সর্বনাশ…’, নির্বাচন কমিশনকে বেনজির আক্রমণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সোমবার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সহ একাধিক ইস্যুতে পথে নেমেছে তৃণমূল। ময়দানে খোদ সুপ্রিমো মমতা। সেখান থেকে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর বদল-সহ একাধিক রাজ্যের আমলাদের বদল নিয়ে সরব হলেন মমতা। শুধু সরব হয়েছেন বলা ভুল, এ দিন ফের একবার বাঙালি অস্মিতা ও অবাঙালিদের পাশে থাকার বার্তা দিলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাত একটায় মেসেজ পেলাম… মধ্য রাতে কখনও শুনেছেন একটা রাজনৈতিক দল চুপিচুপি বিহাইন্ড দ্য সিন গুপ্ত তাণ্ডব করছে। মুখ্যসচিব বাঙালি মহিলা, ওরা নারী বিদ্বেষী। তাঁকে সরিয়ে দিল। আমাদের রাজ্যের কাছে আগে লিস্ট চাইতেন। আমরা তিনটে করে নাম পাঠাতাম। তার থেকে সিলেক্ট করতেন। এটা সুয়োমোটো। যেন দিল্লি কা লাড্ডু। যেন জমিদারি, মগের মুলুক। যে দেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন চুন-চুনকে মারবে…দেশকে কীভাবে রক্ষা করবেন? আপনার মুখে শোভা পায় না।”
বস্তুত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের আগে থেকেই সরব হয়েছিলেন বাঙালি হেনস্থা নিয়ে। ভীন রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের কেন হেনস্থা করা হচ্ছে তা নিয়ে বারেবারে মুখ খুলেছেন তিনি। এমনকী, সোনালী খাতুনকে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে আনতে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলেন। ভোটের আগে মুখ্যসচিবকে সরানো নিয়ে সেই বিষয়টিকেই হাতিয়ার করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, বারেবারে বোঝাতে চান বিজেপি ও কমিশন কতটা নারী-বিদ্বেষী।
মমতা বলেন, “রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ি আক্রান্ত। ওরা বলছে এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি আক্রান্ত হবে। কালীঘাট আক্রান্ত হবে…চারিদিকে গুণ্ডা লেলাব। আমি বলছি বুকের পাটা থাকলে দেখা। লড়ে নেব, সব কটাকে লড়ে নেব। আমরা ঘাসে মুখ দিয়ে চলি না, ঘাসকে জন্ম দিই।”
তিনি আরও বলেন, “নন্দিনী সিএস। বাঙালি মহিলা। ওঁরা শুধু বাংলা বিদ্বেষী নয়, হিন্দু বিদ্বেষীও। হিন্দি বিদ্বেষীও। আমি প্রমাণ করে দিচ্ছি। আপনারা নন্দিনীকে মধ্যরাতে তাণ্ডব করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিলেন। একবার রাজ্যকে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন মনে করলেন না? বিজেপির দালালি করতে গিয়ে। ধিক আপনাদের। হোম সেক্রেটারিও বাদ।” তবে, তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, এবার আর শুধু বাঙালি নয়, অবাঙলিদের পক্ষেও সওয়াল করেছেন মমতা। বোঝাতে চেয়েছেন, যাঁরা বিজেপির কথা শুনবে তাঁরাই ভাল, বাকিরা নয়। তা সে হিন্দু হোক-বাঙালি কিংবা অবাঙালি। তিনি বলেন, “উনি অবাঙালি। কেন বাদ দিলেন? পিযুষ পাণ্ডে অবাঙালি এক কথায় বাদ? সুপ্রতীম বাঙালি…তার মানে বাংলা নয়, অবাঙালিদেরও বাদ দিয়েছেন। আসলে আপনারা খালি দেখেছেন বিজেপির কথায় কারা কাজ করে। তাদের দেখে দেখে পছন্দ করছেন।”
বস্তুত, মমতার কেন্দ্রে বাঙালি-অবাঙালি দুই ভোটার রয়েছে। এবার আবার সেখান থেকে লড়ছেন শুভেন্দু অধিকারী। অবাঙালি ভোটারদের একাংশ ভোট বরাবরই যে বিজেপি-তে যায় তা বলার অপেক্ষা থাকে না। এবার কি তাঁদেরই মন পেতে মরিয়া মুখ্যমন্ত্রী?