
কলকাতা: ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র ‘নন্দন’ চত্বর থেকে মুছে দেওয়া হল রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। নন্দনের নানা ভবন, প্রদর্শনী ক্ষেত্র ও সংস্কারমূলক কাজের উদ্বোধনী স্মারক ফলকগুলোতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম যে অংশগুলোতে খোদাই করা ছিল, সেখানে সাদা ও ধূসর রঙ লেপে তা ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তবে নন্দন প্রতিষ্ঠার মূল স্মারক ফলক, যেখানে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর নাম রয়েছে, তা যথারীতি অক্ষত ও অপরিবর্তিত রয়েছে।
কলকাতার সংস্কৃতিচর্চার কেন্দ্রবিন্দু নন্দন। প্রথমত, কলকাতার বিখ্যাত চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নন্দন, যা বাঙালি চলচ্চিত্রচর্চার প্রাণকেন্দ্র। দ্বিতীয়ত, জ্ঞান ও দর্শনের একটি শাখা হিসেবে ‘নন্দনতত্ত্ব’, যা সাহিত্য ও শিল্পচর্চার ক্ষেত্র। বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, চলচ্চিত্রপ্রেমী এবং তরুণ প্রজন্মের মুক্ত চিন্তা ও আড্ডার অন্যতম প্রধান তীর্থক্ষেত্র এই নন্দন। তাতেই লাগল পরিবর্তনের ছোঁয়া।
১৯৮০ সালে এই কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু এবং ১৯৮৫ সালে এটি উদ্বোধন করেন বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়। পরবর্তীকালে রাজ্য ক্ষমতার পরিবর্তনের পর নন্দনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ, নবীকরণ এবং নতুন প্রদর্শনী কক্ষের উদ্বোধনের স্মারক হিসাবে সেখানে যুক্ত হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত বেশ কিছু ফলক।
বাঁ দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফলকে রং করে দেওয়া হয়েছে
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রয়াণের পর তাঁর নশ্বর দেহ রবীন্দ্র সদন বা নন্দনে শেষ শ্রদ্ধার জন্য রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এ প্রসঙ্গে মমতা তৃণমূলের মুখপাত্র উপাসনা চৌধুরী বলেন, “একটা স্বৈরাচারী সরকার চলছে। মুখ্যমন্ত্রী আসলে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গত ১৫ বছরে রাজ্যে কী কী হয়েছে!”
উল্লেখ্য়, এদিনই নন্দনে সাংবাদিক সন্মেলনে উন্মোচিত হল কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লোগো। বদলে যাচ্ছে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লোগোও। তথ্য় ও সংস্কৃতি দফতরের উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তী নতুন লোগোর উদ্বোধন করেলন।