
কলকাতা: টাকা চেয়ে বিপাকে মমতা তৃণমূল। পুজোর আগে কর্মচারীদের বেতন,বাড়ি ভাড়া আটকে রয়েছে। টাকা দিচ্ছেন না স্পেশ্যাল অফিসার। এমনই অভিযোগ তুলে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল মমতা তৃণমূল। পুজোর আগে টাকা দেওয়ার দাবি তুলে দ্রুত শুনানির আবেদন করেন তাঁরা। কিন্তু, বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়ে দিয়েছেন, দ্রুত শুনানি সম্ভব নয়। পুজোর পরেই শুনানি হবে।
তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিশ। সেই অ্যাকাউন্টের টাকা ব্যবহার করার আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। ৯ জুলাইয়ের শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, আপাতত ওই সব অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবে তৃণমূল। তবে একজন স্পেশাল অফিসার নিযুক্ত করা হয়।
এরপরই কমিশনের তরফে তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ করে দেওয়া হয়। তবে, কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন,প্রতীক ফ্রিজ হলেও তিনটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে বাধা নেই। কীভাবে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে করা যাবে, তাও জানিয়েছেন বিচারপতি সৌগত। তিনি জানিয়েছেন, মমতা তৃণমূলের অথরাইজড যে কোনও দু’জন তিনটি অ্যাকাউন্টের চেকে সই করতে পারবেন। বিশেষ অফিসার চেকে সই করবেন। তারপর ব্যাঙ্ক টাকা দেবে। আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্দেশ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছিলেন বিচারপতি ভট্টাচার্য।
তবে, তৃণমূলের অভিযোগ, স্পেশ্যাল অফিসার টাকা আটকে রেখেছেন। আজ বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মমতা তৃণমূলের তরফে মেনশন করা হয়, পুজোর আগে কাউকে বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, আরও কিছু টাকার প্রয়োজন রয়েছে জানিয়ে যখন আদালত নিযুক্ত স্পেশ্যাল অফিসারের কাছে চিঠি লিখেছিলেন তাঁরা। সেইসময় স্পেশ্যাল অফিসার জানতে চান, শুধু উপনির্বাচনে জন্য লোগো ফ্রিজ হয়েছে? না কতদিনের জন্য? উল্লেখ্য, সম্প্রতি শীর্ষ আদালতের তরফে জানানো হয়, এই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের ব্যাপারে লোগো খুব গুরুত্বপূর্ণ। লোগো যেহেতু সঠিকভাবে নির্ধারণ করা হয়নি, তাই এটা কলকাতা হাইকোর্টের কাছে বিচার্য হবে।
আপাতত পুজোর আগে টাকা মিটিয়ে দেওয়ার দাবি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দ্রুত শুনানির আবেদন করে মমতা তৃণমূল। কিন্তু, সেই আবেদন আপাতত শুনলেন না বিচারপতি ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দ্রুত শুনানি সম্ভব নয়। পুজোর ছুটির পরই মামলার শুনানি হবে।