AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

হাতে দু’দিনের গ্যাস, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিধাননগরের একের পর এক খাবারের দোকান, মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের

Kolkata Gas Crisis : বিধাননগর স্টেশন চত্বরে একটি লস্যির দোকান রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের লস্যির স্বাদ নিতে সেখানে বহু মানুষ ভিড় করেন। লস্যির দাম শুরু ২০ টাকা থেকে। ৭০ টাকা পর্যন্ত লস্যি পাওয়া যায়। বিক্রিও ভাল রয়েছে। কিন্তু, বিক্রেতা জানিয়েছেন, দোকান এবার তাঁকে বন্ধ করে দিতে হবে। কারণ গ্যাস নেই। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর হাতে আর দু'দিনের গ্যাস রয়েছে।

হাতে দু'দিনের গ্যাস, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিধাননগরের একের পর এক খাবারের দোকান, মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের
বিধাননগরের ব্যবসায়ীদের মাথায় হাতImage Credit: Tv9 Bangla
| Updated on: Mar 10, 2026 | 4:39 PM
Share

কলকাতা : ভারতে গ্যাস সংকট। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। একের পর এক বড় বড় রেস্তরাঁ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মুম্বই, ব্যাঙ্গালোর থেকে কলকাতা, সর্বত্র একই ছবি। গ্যাসের অভাবে যদি বড় রেস্তরাঁগুলিই বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ছোট ছোট খাবার দোকানগুলির কী অবস্থা? কলকাতাতেই প্রতিদিন প্রায় হাজার হাজার মানুষ ফুটের দোকানগুলিতে খাওয়া-দাওয়া করেন। কিন্তু, দেখা যাচ্ছে, শহরে গ্যাস সংকটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক খাবার দোকান।

বিধাননগর স্টেশন। প্ল্যাটফর্ম দিয়ে যদি নিচে নেমে এলেই দেখা যাবে দুই পাশ দিয়ে সারি সারি খাবার দোকান রয়েছে। কোথাও বিক্রি হচ্ছে রুটি তরকারি, কোথাও ডিম-পাঁউরুটি, কোথাও আবার নানপুরী, কোথাও ভাতের হোটেল। আবার চা, লস্যির দোকান তো রয়েছেই। যাঁরা প্রতিদিন ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন, তাঁরা লক্ষ্য করবেন কত মানুষ ওই দোকানগুলিতে প্রতিদিন ভিড় করছেন । অফিসে বা কাজে যাওয়ার আগে পেটপুরে খাওয়া-দাওয়া করেন। কিন্তু, আজ সেখানে দেখা গেল একাধিক খাবারের দোকান বন্ধ।

খাবার দোকানের মালিকরা জানাচ্ছেন, গ্যাস না থাকায় দোকান বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। স্টেশন চত্বরেই একটি লস্যির দোকান রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের লস্যির স্বাদ নিতে সেখানে বহু মানুষ ভিড় করেন। লস্যির দাম শুরু ২০ টাকা থেকে। ৭০ টাকা পর্যন্ত লস্যি পাওয়া যায়। বিক্রিও ভাল রয়েছে। কিন্তু, বিক্রেতা জানিয়েছেন, দোকান এবার তাঁকে বন্ধ করে দিতে হবে। কারণ গ্যাস নেই। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর হাতে আর দু’দিনের গ্যাস রয়েছে। দু’দিন তিনি দুধ জ্বাল দিতে পারবেন। গ্যাস বুক করেও পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাস না পেলে দোকান বন্ধ করা ছাড়া কোনও উপায় নেই। আর দোকান বন্ধ করলে প্রচুর আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাঁকে।

অন্যদিকে, এক পরোটা বিক্রেতা জানিয়েছেন, বেশি টাকা দিয়ে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। কিন্তু তারপরও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। সংকট পরিস্থিতিতে তাঁর কাছে একটিমাত্রই সিলিন্ডার রয়েছে। বেশিদিন এই গ্যাস চলবে না। তারপর কী হবে, তিনি নিজেও জানেন না। গ্যাস না পেলে বাধ্য হয়ে দোকান বন্ধ করতে হবে। এদিকে, দোকান বন্ধ করলে আয় বন্ধ হয়ে যাবে। দোকানে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদেরও বসিয়ে দিতে হবে। দোকান বন্ধ হয়ে গেলে নিজে কী খাবেন আর বেতন কোথা দেবেন, এটা ভেবেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কপালে। একদিন দোকান বন্ধ হলেও হাজার হাজার টাকার লোকসান হবে।

দোকানের মালিকরা সরকারের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। তাঁদের আশা, নিশ্চয় কোনও উপায় বের করবে কেন্দ্র। তা না হলে না খেয়ে মারা যেতে হবে তাঁদের।

যদিও, এখানে একটা বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ, ফুটপাতের খাবার দোকানগুলিতে বাণিজ্যিক গ্যাস ব্যবহার করা হয় না। গৃহস্থালি গ্যাস ব্যবহার করা হয়। গ্যাস সংকটে আরও বেশি করে তা ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। যা একেবারেই বেআইনি। তবে, গৃহস্থালি গ্যাসের সরবরাহও কমেছে। সেক্ষেত্রে, দু’ধরনের গ্যাসেই সংকট দেখা গিয়েছে। বেশিদিন আর গৃহস্থালির গ্যাস ব্যবহার করেও দোকান চালু রাখতে পারবেন না ব্যবসায়ীরা।

Follow Us