
কলকাতা: মতুয়া অধ্যুষিত আসনগুলোতে ভোটের পাটিগণিত এবং এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার প্রভাব তৃণমূলের জন্য এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে। তেমনই বলছেন TV9 বাংলার ডেটামশাই। বিশেষ করে নদিয়া, রানাঘাট ও উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া এবং বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের মতো এলাকায় এই প্রভাব স্পষ্ট।
ভোটের হার ও রাজনৈতিক প্রভাব
তথ্য অনুযায়ী, বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রেই প্রায় ৭৮ হাজার মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, যাদের মধ্যে একটি বড় অংশ হিন্দু ও মতুয়া সম্প্রদায়ের। ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে মতুয়ারা নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করলেও, এবার ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্ক প্রভাব ফেলেছে। ১৩টি মতুয়া অধ্যুষিত আসনে গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ৬৫ হাজার ভোট কম পড়েছে—অর্থাৎ কেন্দ্র প্রতি গড়ে ৫ হাজার ভোট কম পড়েছে।
তৃণমূলের কৌশল ও বেনিফিট
মতুয়া বেল্টে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি থাকা সত্ত্বেও এই ‘ভোট কমে যাওয়া’ তৃণমূলের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। নাম বাদ যাওয়ার ভীতি সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করেছে। যারা আগে বিজেপির একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন, তাঁদের একটি অংশ এখন অনিশ্চয়তার কারণে ভোটদান থেকে বিরত থেকেছেন অথবা সমীকরণ বদলেছেন। মতুয়াদের এই ‘অংশগ্রহণ হ্রাস’ আসলে বিজেপির নিশ্চিত ভোটব্যাংকে ধস নামাতে পারে।
অন্যদিকে, তৃণমূল এই এলাকায় তাদের গ্রাউন্ড লেভেল কর্মীদের মাধ্যমে ‘নাগরিকত্ব সুরক্ষা’ এবং ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো সামাজিক প্রকল্পগুলোকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করেছে। ফলে হিন্দু অধ্যুষিত এই আসনগুলোতে মুসলিম ভোটার কম হওয়া সত্ত্বেও, মতুয়া ভোটের এই গাণিতিক পরিবর্তন তৃণমূলকে বাড়তি সুবিধা বা ‘এজ’ দিচ্ছে বলেই মত ডেটামশাইয়ের।