
কলকাতা: এসআইআর চলছে রাজ্য জুড়ে। তার মধ্যেই কলকাতার বুকে চাঞ্চল্যকর খবর। কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের অধীনে কালিকাপুর বস্তিতে টাকা বিলি করতে এসে ধরা পরল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার চার-পাঁচ জন। কীসের জন্য তারা টাকা বিলি করছিল?
জানা গিয়েছে, দিল্লির একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নাম করে ওই ৪-৫ জন কালিকাপুর বস্তিতে টাকা বিলি করছিল। টাকা বিলির জন্য আধার কার্ড, প্যান কার্ড নম্বর এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করছিল। সেই সময় এলাকার বাসিন্দা কয়েকজন বিষয়টি জানতে পেরে তা কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষকে জানায়। খবর যায় আনন্দপুর থানায়। এরপরই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নাম করে যে ৪-৫ জন বস্তিতে গিয়েছিলেন, তাঁদেরকে আটক করে রুবি মোড়ের কাউন্সিলর ওয়ার্ড অফিসে নিয়ে আসা হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করতেই জানা যায়, দিল্লির একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তাঁদের দায়িত্ব দিয়েছে ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের বস্তিতে বস্তিতে টাকা বিলি করতে।
সিডস (SEEDS) নামক একটি সংস্থার বস্তির প্রতি ঘর পিছু আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কোনও রেজিস্টার্ড নম্বর দেখাতে পারিনি টাকা বিলি করতে আসা ব্যক্তিরা। ইতিমধ্যে আনন্দপুর থানার পুলিশ চলে আসে এবং ওই ৪-৫ জনকে প্রিজন ভ্যানে তুলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতিই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে ভোটের মুখে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে টাকা বিলি হতে পারে। সেইমতোই কি এই টাকা বিলি? এভাবে কি কলকাতার প্রত্যন্ত এলাকাগুলিকে টার্গেট করা হচ্ছে? কারা রয়েছে এর পেছনে? প্রশ্ন এখন সেটাই।
১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ বলেন, “আমার কাছে খবর আসে যে কিছু মহিলা স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে ডকুমেন্ট নিয়ে ফর্ম ফিল আপ করাচ্ছে। কীসের ফর্ম ফিল জানতে লোক পাঠালাম, তখন জানতে পারলাম যে কোনও একটা এনজিও তাদের দুই-আড়াই হাজার টাকা দেবে, তাই আধার কার্ড, ব্যাঙ্ক ডিটেইলস নিচ্ছে। তাদের সঙ্গে সঙ্গে ডেকে পাঠাই। তারা বলে যে এরা এখানকার নয়, দিল্লির একটি এনজিও থেকে টাকা বিলি করতে পাঠানো হয়েছে। বন্যা ত্রাণের জন্য টাকা দিতে এই বস্তি বাছাই করা হয়েছে। আধার কার্ড এবং ব্যাঙ্কের ডিটেইল নেওয়া হয়েছে। আমরা চেপে ধরতে দিল্লির সিডস নামে একটি এনজিও-র নাম বলে, যদিও তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখাতে পারেনি। আমার খুব সন্দেহজনক লাগে। আমি আনন্দপুর থানায় অভিযোগ জানিয়েছি।”
তিনি বলেন, “যেভাবে সাইবার ক্রাইম বাড়ছে, তাতে এই তথ্যগুলি গরিব মানুষদের অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক। নাহলে দিল্লির সংস্থা কেন টাকা বিলি করতে আসবে। যারা ফর্ম বিলি করছিলেন, তারা নদিয়ার বাসিন্দা। একজন আধিকারিক ছত্তীসগঢ়ের, একজন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। এই সাদা কাগজে কোনও এনজিও-র নাম লেখা নেই। ব্যাঙ্কে টাকা ঢোকার আগেই সই করিয়ে নিচ্ছে। এই ফর্মে স্পষ্ট লেখা আছে যে আমি আমার ব্যাঙ্কে টাকা পাওয়ার পর স্বাক্ষর করব। কিন্তু ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট নম্বর, আধার কার্ডের নম্বর নেওয়া হয়েছে। নিঃস্ব হয়ে যেত গরিব মানুষগুলো।”
এক স্থানীয় বাসিন্দা, আশারানি সাহা বলেন, “ওরা এসে বলে আপনাদের কিছু জিনিস দেব। নাম বলুন। তারপর ব্লিচিং পাউডার ও দুটো বালতি দিল। তারপর জিজ্ঞাসা করল যে আমাদের আয় কত, ওষুধ কিনে খেতে পারি কি না। বলল যে কিছু টাকা দেবে, আধার কার্ডের নম্বর ও ব্য়াঙ্কের অ্যাকাউন্ট নম্বর দিন। আসল আধার কার্ড দেখতে চাইল। ফোনে আগে মেসেজ আসবে, ওটিপি আসবে, তারপর টাকা পাবেন। আমরা সেই মতো আধার নম্বর দিই, সই করি।”