
কলকাতা: দল বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর নানা অভিযোগ উঠেছে। এই আবহে রবিবার নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে সাংগঠনিক বৈঠক করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। দলের রাজ্য পদাধিকারী, জেলা সভাপতি, জেলা ইনচার্জ, বিভাগ কনভেনর, মোর্চা সভাপতি, সেলের দায়িত্ব প্রাপ্ত, সমাজ মাধ্যম, প্রযুক্তিগত দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে বৈঠক করলেন তিনি। দলের অন্দরে বেনোজল আটকাতে পদাধিকারীদের নির্দেশ দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি।
কী বললেন নিতিন নবীন?
রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ রাজ্য বিজেপির নেতারা এদিনের সাংগঠনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে নিতিন নবীন বার্তা দেন, দল ক্ষমতায় আসার পর নানা অভিযোগ উঠেছে। তা নিয়ে শক্ত হাতে দায়িত্ব নিতে হবে নেতৃত্বকে। বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, সংগঠনের বৃদ্ধির জন্য শুধুমাত্র সরকারের ভূমিকা কিংবা তার কার্যকলাপের উপর নির্ভরশীল থাকা নয়। সেইসঙ্গে নিয়মিতভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতে হবে। তা সঙ্গী করেই সাংগঠনিক শক্তি মজবুত করার নির্দেশ দেন নিতিন।
বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর একাধিক নেতা বা কর্মীর বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠছে। তা নিয়েও নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। তিনি বার্তা দেন, দুর্ব্যবহারের যে অভিযোগ উঠছে, তা নিয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজন যেমন রয়েছে। তেমনই নম্রভাবে কাজ করতে হবে।
কী কী করতে হবে, উঠে এল বৈঠকে-
আপাতত ৭ অক্টোবর পর্যন্ত পাড়ায় পাড়ায় জনসংযোগ। বুথ ভিত্তিক কর্মসূচি ও প্রচার কাজ। সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে লাগাতার প্রচার করতে হবে। একইসঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হল, পুজোর পর ফের একইভাবে চলবে প্রচার। এদিন বৈঠকে আরও বলা হয়েছে, এলাকার বুদ্ধিজীবীদের ( শিক্ষক, অধ্যাপক, সরকারি আধিকারিক, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, ব্যবসায়ী) সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। বুথে বুথে পথসভা করে ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল ব্যাখ্যা করতে হবে।
সূত্রের খবর, যাঁরা ভালো তৃণমূল, তাঁরা যদি বিজেপিতে যোগ দিতে চান, তাহলে কী করণীয়, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনায় হয়েছে। এলাকার ভালো তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে আলাদা করে বৈঠক করতে হবে।
যুব মোর্চার নেতৃত্বে বুথে বুথে ওয়ার্ডগুলিতে মশাল যাত্রা হবে। স্থানীয় ক্লাবগুলির সঙ্গে কর্মীদের জনসংযোগ বাড়াতে হবে। যুবদের দলের প্রতি আকৃষ্ট করতে হবে। পাড়ায় পাড়ায় মন্দির, পুজোর থানে নিয়মিত পুজো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যোগাযোগ বাড়াতে হবে মহিলা আর বয়স্কদের মধ্যে।
পূর্ণাঙ্গ রাজ্য কমিটি গঠনের পরে প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে দল এবং সরকারের সমন্বয়ে জোর দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে বিধায়কদের সঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক পদাধিকারীদের মতপার্থক্য অনেক এলাকাতেই প্রকাশ্যে এসেছে। জনপ্রতিনিধি এবং সংগঠন পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলছে না বলে দলের অন্দরেই অভিযোগ উঠেছে। দল ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় রাখতে জেলায় জেলায় কোর কমিটি গঠন হয়েছিল আগেই। তার পরও বিভিন্ন এলাকায় বিধায়ক এবং সাংগঠনিক পদাধিকারীদের সমান্তরাল গতিবিধি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ বার সেই পরিস্থিতি নিরসনের নির্দেশ দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন।
বিজেপি সূত্রের দাবি, বৈঠকে দল এবং সরকারের মধ্যে সমন্বয়ে জোর দিয়েছেন নিতিন। তিনি বার্তা দেন, সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে এবং সংগঠন মজবুত রাখতে জনপ্রতিনিধি এবং সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। সরকার গত ক’মাসে যে সব কাজ করেছে, সে সবের প্রচার বৃদ্ধিতে সংগঠনকে সক্রিয় হতে নির্দেশ দেন। সংগঠনকে মজবুত রাখতে দলীয় পদাধিকারীদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলার জন্য জনপ্রতিনিধিদের বার্তা দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি।