
কলকাতা: দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর তথা চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল স্বাস্থ্য সঞ্জয় দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যু। বাড়ি থেকেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। তড়িঘড়ি তাঁকে নাগেরবাজারের এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলেই সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জোরদার চাপানউতোর রাজনৈতিক মহলে। তিনি আবার রাজারহাট গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বীমা দেবরাজ চক্রবর্তীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে খবর। মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে যান অদিতিও।
২৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি কিরণ ভট্টাচার্য আবার এর পিছনে বিস্ফোরক দাবি করছেন। তাঁর দাবি, সঞ্জয় দাসকে বেশ কিছু লোকজন হুমকি দিয়েছিল। তাঁরা আবার আগে তৃণমূল করতো। এখন বিজেপি। ওই হুমকির পরই স্ট্রেস নিতে না পেরে আত্মহননের পথে হেঁটেছেন সঞ্জয়। রীতিমতো উদ্বেগের সুরে তিনি বলেন, “আমি শুনেছি সঞ্জয় দাসকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ওর থেকে ১০ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছিল। যে ছেলেরা ওর থেকে টাকা চায় তাঁদের ও বলে তোরা ১০ হাজার টাকা নে আমি পরে দেখছি। শুনেছি এরা সব ১২টার পর বিজেপি। আগে সব তৃণমূলে ছিল। সরকার বদলের পর বিজেপি। হয়েছে। আমি মনে করি বিজেপির কোনও কর্মীরা এই কাজ করতে পারে না। শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয়। বিজেপি এই জিনিস বরদাস্ত করবে না। আমি অনুরোধ করব যাঁরা বা যে গিয়েছিল তাঁদের খুঁজে বের করা হয়। ওদের ধমকের পরই সঞ্জয় আর স্ট্রেস নিতে পারেনি।”
প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালা বদলের পর থেকেই জোরকদমে চলছে ধড়পাকড়। দুর্নীতির অভিযোগে পুলিশের জালে একের পর এক হেভিওয়েট নেতা। ইতিমধ্যেই একাধিক তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলরকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের জালে বিধাননগর পৌরনিগমের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশোভন মণ্ডল, ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রঞ্জন পোদ্দার। একদিন আগেই পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলর পার্থ ভার্মা। তিনি দক্ষিণ দমদম পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল। এরইমাঝে সঞ্জয় দাসের মৃত্যু ঘিরে চাপানউতোর তুঙ্গে।