Two Commissions formed: প্রাতিষ্ঠানিক কারচুপির তদন্তে কমিশন গঠন, মহিলা সুরক্ষার বড় দায়িত্ব দময়ন্তী সেনের হাতে

Bengal Commissions on Corruption and Women Atrocities: মহিলা ও শিশুদের উপর অত্যাচারের ঘটনা খতিয়ে দেখতে যে কমিশন গঠন করা হয়েছে, তার চেয়ারপার্সন করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়কে। আর আইপিএস দময়ন্তী সেনকে এই কমিশনে রাখা হয়েছে। গত কয়েক বছরে মহিলাদের উপর অত্যাচারের যে ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখবে এই কমিশন। তারপর পদক্ষেপ করা হবে।

Two Commissions formed: প্রাতিষ্ঠানিক কারচুপির তদন্তে কমিশন গঠন, মহিলা সুরক্ষার বড় দায়িত্ব দময়ন্তী সেনের হাতে
দুটি কমিশন গঠনের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

May 18, 2026 | 5:58 PM

কলকাতা: এবার তৃণমূল সরকারের আমলে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পে কারচুপির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কমিশন গঠন করল শুভেন্দুর সরকার। সোমবার নতুন সরকারের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। সেখানেই এই কমিশন গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে রাজ্য সরকার আরও একটি কমিশন গঠন করল। মহিলা ও শিশুদের উপর গত কয়েক বছরে যে অত্যাচারের ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে দ্বিতীয় কমিশনটি গঠন করা হয়েছে। এদিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই দুই কমিশন গঠনের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 

মহিলা ও শিশুদের উপর অত্যাচারের ঘটনা খতিয়ে দেখতে যে কমিশন গঠন করা হয়েছে, তার চেয়ারপার্সন করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়কে। আর আইপিএস দময়ন্তী সেনকে এই কমিশনে রাখা হয়েছে। গত কয়েক বছরে মহিলাদের উপর অত্যাচারের যে ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখবে এই কমিশন। তারপর পদক্ষেপ করা হবে।

বিগত তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি-সহ বিরোধীরা। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পেও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। এবার এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই কমিশন গঠন করল নতুন সরকার। এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ঘোষণা করেন, কেন্দ্র এবং রাজ্যের সামাজিক প্রকল্পের প্রাতিষ্ঠানিক কারচুপির তদন্ত হবে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে আইপিএস কে জ‍য়রামণ এর তদন্তভার নেবেন। কমিশনের সদস্যসচিব করা হয়েছে তাঁকে। কেন্দ্রের যেসব সুপারিশ রয়েছে, সেগুলিরও তদন্ত হবে। মন্ত্রিসভার অনুমতি নিয়ে আগামী ১ জুন থেকে দুটি কমিশন কাজ শুরু করবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান।

দুটি কমিশন গঠন নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু?

এদিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে দুটি কমিশন গঠনের কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “নির্বাচনের সময় আমাদের মাননীয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজি তৎকালীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যখন চার্জশিট প্রকাশ করেছিলেন, দুটো কমিটমেন্ট ছিল। পশ্চিমবঙ্গের আপামর মানুষের স্বার্থে। সেই দুটোর সিদ্ধান্ত আজকে ক্যাবিনেটে আমরা নিয়েছি। এটার জন্য মানুষ প্রত্যাশাও করছেন। যদিও আমরা খুব অল্প দিনের মধ্যে ওয়ার্কআউট করেছি, কিন্তু এটা একটা লং প্রসেস আছে। এখনই যদি শুরু না করি, আমরা দু-তিন মাসের মধ্যে কিছু রেজাল্ট দিতে পারব না বলে মনে করেছি। তাই এই দশ দিনের মধ্যেই মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিল।”

এরপরই তিনি বলেন, “আমাদের দুটো প্রতিশ্রুতির মধ্যে একটা হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে হাইকোর্ট কিংবা সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটি গঠন। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের নানারকম পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে যে সমস্ত দুর্নীতি হয়েছে, কাটমানি নেওয়া হয়েছে, ঘুষ নেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে সরকারি আধিকারিক, পঞ্চায়েত, কাউন্সিলর, দালাল যুক্ত ছিলেন। তারই তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে কমিশন গঠন করা হল। ১ জুন থেকে তাঁরা কাজ করবেন। রাজ্য সরকার তাঁদের সাহায্য করবে।”

এই কমিশন ৩০ দিনের মধ্যে তাদের সুপারিশ দেওয়া শুরু করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে পুলিশের পক্ষ থেকে এফআইআর দায়ের করব এবং বিএনএসের অন্তর্গত যে সেকশন আছে, সেটা দিয়ে আমরা অ্যাকশনও নেব। এবং সরকারি ফান্ড থেকে যা দুর্নীতি হয়েছে, তা পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করব।”

দ্বিতীয় কমিশন গঠন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গত কয়েক বছরে পশ্চিমবাংলায় মহিলাদের উপরে, মা-বোন-দিদি এবং শিশুকন্যাদের উপরে যে ধরনের অত্যাচার হয়েছে, এ বিষয়ে আর একটি কমিশন আমরা তৈরি করেছি। এর চেয়ারপার্সন করা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়কে।কমিশনের সদস্যসচিব করা হয়েছে আমাদের এডিজি র‍্যাঙ্কের আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেনকে। কেবলমাত্র সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যে তদন্তগুলি চলছে, সেই মামলাগুলির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কয়েকটি মামলা ছাড়া বা সেই সংক্রান্ত ব্যক্তিদের ছাড়া অন্য মামলাগুলি প্রত্যেকটাই তাঁরা দেখবেন। প্রয়োজন হলে ফাইনাল রিপোর্ট দিয়ে দেওয়া এফআইআরগুলোকে, চার্জশিটগুলোকে নতুন করে খতিয়ে দেখবেন। এবং আমরা আশা করছি দেড় মাসের মধ্যে কিছু সুপারিশও চলে আসবে।” মানুষের বক্তব্য শুনতে এই কমিশন জেলা জেলায় পৌঁছে যাবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান।

বাংলার জনগণকে অনুরোধ করে শুভেন্দু বলেন, “আমি মিডিয়ার মাধ্যমে সমগ্র বাংলার জনগণকে বলব, পূর্ণ সহযোগিতা করুন। আপনাদের কাছে যে তথ্য আছে, যে ডকুমেন্টস বা প্রমাণ আছে, তা এই কমিশনকে পাঠান। আপনাদের যে প্রত্যাশা রয়েছে, তা পূরণ করার কাজ এই সরকার করবে।”

Follow Us