
কলকাতা: বুথে বুথে লম্বা লাইন। রেকর্ড ভোটদান। বাংলায় প্রথম দফার ভোটগ্রহণ নিয়ে ২৪ ঘণ্টা পরও আলোচনা জারি। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিল, প্রথম দফার কোনও বুথেই পুনর্নির্বাচনের সুপারিশ করা হয়নি। অর্থাৎ, প্রথম দফায় যে ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে, তার কোনও বুথেই পুনর্নির্বাচন হচ্ছে না। শুক্রবার তামিলনাড়ুতেও ভোটগ্রহণ হয়েছে। সেখানেও কোনও বুথে পুনর্নির্বাচন হচ্ছে না বলে কমিশন জানিয়ে দিল।
কী বলল কমিশন?
প্রথম দফায় বাংলার ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছিলেন, কয়েকটি বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনা ছাড়া ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে। বুথের মধ্যে কোনও গন্ডগোলের অভিযোগও ওঠেনি। এদিন কমিশন জানিয়েছে, বাংলায় প্রথম দফায় ৪৪ হাজার ৩৭৬টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছে। কোনও ভোটকেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচনের সুপারিশ করা হয়নি।
গতকাল তামিলনাড়ুর ২৩৪টি বিধানসভা আসনেই এক দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছে। এদিন কমিশন জানিয়েছে, তামিলনাড়ুতে মোট ৭৫ হাজার ৬৪টি ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। সেখানেও কোনও ভোটকেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সুপারিশ করা হয়নি। অর্থাৎ তামিলনাড়ুতে কোনও বুথে পুনর্নির্বাচন হচ্ছে না।
বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার সময়ই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছিলেন, অবাধ ও স্বচ্ছ ভোট করতে বদ্ধপরিকর কমিশন। আর সেই লক্ষ্যে সবরকম পদক্ষেপ করা হচ্ছে। বুথ জ্যাম, ছাপ্পা রুখতে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করে। প্রত্যেক বুথ সিসিটিভি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা হয়। কোনও নির্দেশিকা অমান্য করা হলেই সংশ্লিষ্ট বুথে পুনর্নির্বাচন হবে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছিল কমিশন।
গতকাল বাংলায় প্রথম দফার নির্বাচনে কয়েকটি জায়গায় হিংসার ছবি সামনে আসে। বীরভূমে আক্রান্ত হন লাভপুরের বিজেপি প্রার্থী। বীরভূমের খয়রাশোলেও উত্তেজনা ছড়িয়েছিল বিকেলে। মুর্শিদাবাদের নওদাতেও উত্তেজনা ছড়ায়। দিনশেষে অবশ্য সব দলই ভোটদানের হার নিয়ে খুশি। প্রথম দফায় ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। ছাপ্পা ভোট, বুথ দখলের অভিযোগের কথা শোনা যায়নি। ভোটদান যে নির্বিঘ্নে হয়েছে, সেকথা স্পষ্ট করে দিয়ে কমিশন জানিয়ে দিল, প্রথম দফার ভোটে কোনও বুথে পুনর্নির্বাচন হচ্ছে না।