
কলকাতা: বিধায়কদের শপথ পড়ানো নিয়ে প্রবল টানাপোড়েন। রাজ্যপাল ও বিধানসভার মধ্যে জোর তরজা চলছে। উপনির্বাচনে জয়ী তিন বিধায়ককে কে শপথবাক্য পাঠ করাবেন, তা নিয়েই প্রশ্ন এই মুহূর্তে। একই সঙ্গে সূত্রের খবর, এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে কোনও রকম জটিলতা চাইছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ন (Mamata Banerjee)। নির্বিবাদে, বিনা বিতর্কে এই পর্ব হোক বলেই ঘনিষ্ঠমহলে জানিয়েছেন তিনি।
এখনও পর্যন্ত তা স্পষ্ট নয়। সোমবার রাতেই রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় টুইট করেন, গেজেট নোটিফিকেশন হওয়ার পর তিনি এ বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত জানাবেন। তবে গেজেট নোটিফিকেশন সোমবার রাতেই হয়েছে। বিধানসভাতেও তা পৌঁছে গিয়েছে। ফলে যে নোটিফিকেশনের অপেক্ষায় রাজ্যপাল ছিলেন, তা জারি হয়ে গিয়েছে। এবার বিধানসভার সচিবালয় তাকিয়ে রয়েছে রাজভবনের দিকে।
রাজ্যপাল কী অবস্থান নেন তার উপরই নির্ভর করবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আমিরুল ইসলাম ও জাকির হোসেনের শপথ কবে এবং কোথায় হবে! ইতিমধ্যেই বিধানসভার পরিষদীয় দফতর রাজভবনে চিঠি দিয়ে জানিয়েও দিয়েছে যে, ৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার মধ্যে যেন শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। সেটা রাজ্যপালই পাঠ করাতে পারেন বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতর। তবে তাদের দাবি, শপথবাক্য রাজ্যপাল বিধানসভায় এসে পাঠ করান।
সত্যিই যদি রাজ্যপাল বিধানসভায় এসে বিধায়কদের শপথবাক্য পাঠ করান, তা নজির তৈরি করবে বলেই দাবি বিধানসভা কর্তৃপক্ষের একাংশের। একই সঙ্গে তাঁরা এই প্রশ্নও তুলছেন, ৩০ অক্টোবর রাজ্যে চার বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন রয়েছে। তার পর ২ নভেম্বর ফলাফল প্রকাশ হবে। সেক্ষেত্রেও কি রাজ্যপাল একই ভূমিকা পালন করবেন? নাকি শুধুমাত্র বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শপথের ক্ষেত্রে এই ভূমিকা হতে পারে রাজ্যপালের।
প্রশাসনিক সূত্রে এমনও শোনা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চান না কোনও ভাবেই এই শপথ নিয়ে জটিলতা তৈরি হোক। কোথাও কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হোক। তিনি চাইছেন গোটা প্রক্রিয়াটি শান্তিপূর্ণ ভাবে সমাপ্ত হোক। রাজ্যপাল যেহেতু সোমবারই গ্যাজেট নোটিসের অপেক্ষার কথা বলেছেন, এখন দেখার এ নিয়ে মঙ্গলবার রাজভবন থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া আসে কি না।
সোমবারই পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা অনুরোধ করেছি রাজ্যপাল মহোদয়কে। আগামী ৭ তারিখ ১২টার আগে আমরা চাইছি বিধানসভায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উনি শপথবাক্য পাঠ করান। আমরা আশা করছি নোটিফিকেশনটা হয়ে গেল উনি ৭ তারিখ বিধানসভায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আরও দুই নতুন নির্বাচিত বিধায়ককে শপথবাক্য পাঠ করাবেন।” এদিন রাতেই নোটিফিকেশন জারিও হয়ে যায়।
এ বিষয়ে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এটা রাজ্যপালই জানেন কী করবেন। তবে আমার মনে হয়, আমাদের যে সংসদীয় রীতিনীতি বা সাংবিধানিক রীতিনীতি তা উনি নিশ্চয়ই ভাঙবেন না। তা মাথায় রেখে উনি সিদ্ধান্ত নেবেন।”
আরও পড়ুন: DVC: জল ছাড়া নিয়ে বার বার রাজ্যের তোপ! কোন প্রক্রিয়ায় জল ছাড়া হয়, বিজ্ঞাপন দিয়ে জানাল ডিভিসি