
কলকাতা: বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদিকে খুনের ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশি ধরা পড়ল বাংলায়। ধৃতের নাম ফিলিপ সাংমা। নদিয়া জেলার শান্তিপুর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ। ওসমান হাদি খুনে মূল অভিযুক্তদের সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে আসতে সাহায্য করেছিলেন ধৃত ব্যক্তি। পরে নিজেও ভারতে চলে এসেছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বাংলাদেশি নাগরিক ফিলিপ সাংমাকে গ্রেফতার করল বেঙ্গল এসটিএফ।
মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার থাকাকালীন পদ্মাপারের দেশে খুন হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর তাঁকে গুলি করে পালায় দুই দুষ্কৃতী। হাদি খুনের বিচার চেয়ে উত্তাল হয় বাংলাদেশ।
কয়েক দিন আগেই বনগাঁ সীমান্ত থেকে হাদি হত্যার মূল চক্রী এবং তাঁর সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ। ধৃতদের নাম ফয়জল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন। মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে তাঁরা ভারতে ঢুকেছিলেন। আর গ্রেফতারির আগে বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় একটি বাড়িতে গা-ঢাকা দিয়ে ছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালায় এসটিএফ। গ্রেফতার করা হয় তাঁদের। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দু’জনেই বাংলাদেশের অন্যতম ছাত্র আন্দোলনকারী ওসমান হাদির খুনের কথা স্বীকার করেন বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রে জানা গিয়েছে, হাদি খুনে মূল অভিযুক্তদের সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আসতে সাহায্য করেছিলেন ফিলিপ সাংমা। এর জন্য ৫০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। পরে বাংলাদেশ পুলিশের তাড়া খেয়ে তিনিও সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়েন। ফিলিপও মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢোকেন বলে জানা গিয়েছে। ফয়জল ও আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই ফিলিপের নাম জানতে পারে বেঙ্গল এসটিএফ। জানা গিয়েছে, ভারতে ঢোকার পর বারবার ঠিকানা বদলাচ্ছিলেন ফিলিপ সাংমা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শান্তিপুর বাইপাস এলাকা থেকে বেঙ্গল এসটিএফ তাঁকে গ্রেফতার করে। এদিকে, ফয়জল ও আলমগীরকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে সেদেশের সরকার।