
কলকাতা: উৎসব বা বিশেষ কোনও অনুষ্ঠানের সময় রেলস্টেশনে অনেক সময় যাত্রীসংখ্যা বেড়ে যায়। সেই কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে যাতে সমস্যা না হয়, তার জন্য নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করছে রেল সুরক্ষা বাহিনী বা RPF। ‘DS-12 E-Forecasting Register for High-Footfall Events’ (EFRR) নামে এই ডিজিটাল রেজিস্টারে সম্ভাব্য অতিরিক্ত ভিড়ের অনুষ্ঠানগুলির তথ্য আগে থেকেই নথিভুক্ত করা হবে।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনও স্টেশনে কখন যাত্রীর চাপ বাড়তে পারে, তার আগাম পূর্বাভাস পাওয়া যাবে। সেই অনুযায়ী RPF-এর অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন, যাত্রীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে রাজ্য পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করা সম্ভব হবে।
কী কী অনুষ্ঠানের তথ্য থাকবে?
RPF-এর ডিজিটাল রেজিস্টারে থাকবে—
দুর্গাপুজো-সহ বিভিন্ন উৎসব
হোলি, দীপাবলি, ছটপুজো, বড়দিন
ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও মেলা
পরীক্ষা ও নিয়োগ পরীক্ষা
রাজনৈতিক সভা ও কর্মসূচি
ক্রীড়া অনুষ্ঠান
সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠান
বড় ধরনের জনসমাবেশ
পর্যটনের বিশেষ মরশুম
অর্থাৎ যে কোনও অনুষ্ঠানের কারণে কোনও স্টেশনে স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিক হারে যাত্রী বাড়তে পারে, সেই তথ্য আগেভাগেই রেজিস্টারে তোলা হবে।
কত আগে থেকে তথ্য দিতে হবে?
নির্দিষ্ট তারিখের উৎসবগুলির ক্ষেত্রে ৬০ দিন বা তারও আগে তথ্য নথিভুক্ত করা যেতে পারে। অন্যদিকে মেলা, পরীক্ষা, রাজনৈতিক সভা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মতো কর্মসূচির ক্ষেত্রে সম্ভব হলে কমপক্ষে তিন সপ্তাহ আগে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করতে বলা হয়েছে। তবে কোনও অনুষ্ঠান শেষ মুহূর্তে ঘোষণা হলে, নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা ডিজিটাল রেজিস্টারে নথিভুক্ত করতে হবে।
কেন এই উদ্যোগ?
RPF-এর বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে ভিড় বাড়ার খবর সময় মতো না পাওয়া, যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধির যথাযথ পূর্বানুমান না থাকা এবং বিভিন্ন স্তরে তথ্যের সমন্বয়ের অভাবে প্রস্তুতিতে সমস্যা হয়েছে। তাই শুধুমাত্র পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে এবার আগাম তথ্য, ডেটা বিশ্লেষণ এবং পরিকল্পিত মোতায়েনের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
RPF-এর Special Intelligence Branch (SIB)-এর কর্মীদের এই তথ্য নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার সম্ভাব্য হাই-ফুটফল ইভেন্ট সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
সব মিলিয়ে, এই EFRR-কে রেল স্টেশনগুলিতে ভিড় ব্যবস্থাপনার একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডেটাবেস হিসেবে ব্যবহার করা হবে—যেখানে আগাম পূর্বাভাস থেকে শুরু করে গৃহীত পদক্ষেপ এবং অনুষ্ঠান শেষে পরিস্থিতি পর্যালোচনার তথ্যও রাখা হবে।