
কলকাতা : দু’দিন আগেও তিনি ছিলেন। শুটিং করছিলেন। কিন্তু, জীবন যে কত অনিশ্চিত তা আরও একবার বুঝিয়ে দিল অভিনেতা রাহুল অরুণাদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক প্রয়াণ। তালসারিতে শুটিং চলকালীন সমুদ্রে তলিয়ে যান অভিনেতা। সোমবারই কেওড়াতলা শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে অভিনেতার। তবে, তাঁর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রশ্ন উঠে আসছে। ইউনিটের সদস্যদের বয়ানে অসঙ্গতি ধোঁয়াশা তৈরি করছে। সেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ধোঁয়াশা-প্রশ্নের মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট করলেন রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁর দাবি, নিরাপত্তার গাফিলতিতেই মৃত্যু হয়েছে রাহুলের।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছেন রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি লেখেন, ‘নিরাপত্তার গাফিলতিতেই রাহুলের মৃত্যু তা স্পষ্ট। দায় এড়াতে হাজারটা মিথ্যে গল্প বুনে লাভ নেই।’ এর আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিরাপত্তার বিষয়ে সরব হয়েছেন। একইসঙ্গে রাজ্য সরকারকে নিশানাও করেছেন। রুদ্রনীল বলেন,”গল্প ঘোরানো যাবে না। সত্যি চাপা যাবে না। যে শিল্পী অসতর্ক ছিল, তাই এটি হয়েছে, এটা বলা যাবে না। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে কী আসবে জানি না। কিন্তু, যে রাজ্যে ফাইল চুরি হয়, সেই রাজ্যে যে কোনও রিপোর্ট পরিবর্তন করে দেওয়া হতে পারে। তাই সকলকে সতর্ক হওয়া উচিত।”
শুটিংয়ের নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছেন বাদশা মৈত্রও। তিনি বলেন, “দুর্ঘটনা হতে পারে। কিন্তু, যদি আমার জানা থাকে, সেখানে বিপদ আছে, তাহলে যাওয়া উচিত নয়। কতটা সমুদ্রে যাওয়া যেতে পারে, কতটা গেলে বিপদ হতে পারে, গোটা ইউনিটের কাছে সেই খবর থাকতে হবে। প্রত্যেক সদস্যের জানা উচিত, লক্ষণরেখাটা কোথায়। কতদূর যাওয়া উচিত, কতদূর যাওয়া উচিত নয়।”
অন্যদিকে, চৈতি ঘোষাল বলছেন, “আউটডোর শুটিংয়ে সবসময় নিয়ম মানা হয় না নানা কারণে। কিন্তু, কতটা ঝুঁকি নিয়ে কী শট নেওয়া হবে, তা অবশ্যই যাঁরা শুটিং করছেন, তাঁদের উপর নির্ভর করে।”
ইতিমধ্যেই একাধিক তারকা নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ফুসফুস ভরে গিয়েছিল নোনা জলে। ফলে দমবন্ধ হয়ে যায়, থেমে যায় হৃদস্পন্দন। তাতেই মৃত্যু হয় অভিনেতার। ইতিমধ্যেই প্রযোজনা সংস্থারকে ‘ব্ল্যাক লিস্ট’ করার দাবি করেছে সর্বভারতীয় সিনে সংগঠন। শুধু তাই নয়, মৃতের পরিবারকে এক কোটি ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি তুলেছেন তাঁরা।