
কলকাতা: রাতারাতি ছবিটা একদম বদলে গিয়েছে। গার্ডরেল দিয়ে রাস্তা আর ঘেরা নেই। পুলিশের কড়া নজরদারি নেই। নিশ্চিন্তে যাতায়াত করছেন সবাই। বুধবার সকাল থেকে এই ছবিই দেখা যাচ্ছে হরিশ মুখোপাধ্যায় রোডে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনের রাস্তায়। লালবাজারের নতুন সিদ্ধান্তে খুশি অভিষেকের প্রতিবেশীরা।
শান্তিনিকেতন। হরিশ মুখোপাধ্যায় রোডে অভিষেকের বাড়ির নাম। রাস্তার একদম ধারেই বাড়ি। এতদিন এই বাড়ির সামনে থাকত কড়া নিরাপত্তা। সোমবার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পরই লালবাজার অভিষেকের বাড়ির সামনে থেকে পুলিশি নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মঙ্গলবার রাতেও তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ডের বাড়ির সামনে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রহরা দেখা গিয়েছে। বুধবার সকাল থেকে অবশ্য শুধু কয়েকটা চেয়ার পড়ে রয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান কিংবা পুলিশকর্মীরা নেই।
লালবাজারের সিদ্ধান্তে মুখ খুললেন অভিষেকের প্রতিবেশীরা-
লালবাজারের সিদ্ধান্তে যে তাঁরা যারপরনাই খুশি, এদিন সকালে বুঝিয়ে দিলেন অভিষেকের প্রতিবেশীরা। এতদিন যে তাঁদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হত, সেকথা তুলে ধরলেন। অভিষেকের এক প্রতিবেশী বলেন, “এলাকার লোককেও যাতায়াতের সময়া নানা সমস্যায় পড়তে হত। পুলিশের উপর নিশ্চয় সেরকম নির্দেশ ছিল। এখানে যাঁদের জন্মভূমি, তাঁরা অসহায় অবস্থায় ছিলেন।” অভিষেকের বাড়ির রাস্তায় নিরাপত্তার জন্য এই রাস্তায় বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায় জানিয়ে তিনি বলেন, “এই রুটে একাধিক বাস চলত। নাকতলা, কুঁটঘাট, পর্ণশ্রীর মতো রুটের বাস চলত। সেসব বন্ধ করে দেওয়া হয়।”
পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন আর এক বৃদ্ধ। লালবাজারের সিদ্ধান্তে স্বস্তির শ্বাস ফেলে তিনি বলেন, “আমার ৭৯ বছর বয়স। এখানেই জন্ম। অভিষেক যখন গাড়ি নিয়ে বেরতেন, তখন কেউ বেরতে পারতেন না। গাড়ি বেরিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত পুলিশ হাত দেখিয়ে থামাত। যতই জরুরি কাজ থাক কিংবা অ্যাম্বুল্যান্স, সব কিছু থামিয়ে দিত। আমাদের খুব অসুবিধা হয়েছে। বলা যেত না। এখন বলতে পারছি। স্বস্তি পেলাম। এতদিন যেন নজরে ছিলাম। এখন অবাধে যাতায়াত করতে পারব।” তিনি বলেন, এখানে একশোর বেশি পুরুষ-মহিলা পুলিশকর্মী থাকতেন। সেসব আজ নেই। তাই খুশি তাঁরা। কয়েকজনকে দেখা গেল, নিশ্চিন্তে রাস্তার একদম ধার ঘেঁষে অভিষেকের বাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তা পেরলেন। আগে এটা ভাবাই যেত না বলে জানালেন অভিষেকের প্রতিবেশীরা।