
কলকাতা : সোমবার গণনার ফল ঘোষণা। তার আগে সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল ২০২১-এর ভোট পরবর্তী হিংসার (Post Poll Violence) কথা। সেই প্রসঙ্গ টেনেই শমীকের বার্তা, গতবার যে হিংসার ছবি দেখেছিল বাংলা, তা যেন এবার না হয়। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ২০২১-এর পুনরাবৃত্তি যেন না হয়। যেভাবে বিজেপি (BJP) কর্মীদের উপর অত্যাচার হয়েছিল, তার পাল্টা যেন একই পরিস্থিতি তৈরি না করেন বিজেপি কর্মীরা। অর্থাৎ তাঁর বক্তব্যে একটাই ইঙ্গিত, বদল হলেও, বদলার জায়গা থাকবে না।
গণনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করেন শমীক। প্রথমেই পশ্চিমবঙ্গে রেকর্ড ভোট দানের বিষয়টি তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। শান্তিপূর্ণ রেকর্ড ভোটদানের জন্য বাংলার মানুষকে ও নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান। এরপরই ভোট পরবর্তী হিংসার আশঙ্কা করেন তিনি। উঠে আসে গতবারের ভোটপরবর্তী হিংসা কথা। শমীক বলেন,”ভোট-পরবর্তী হিংসায় আমাদের বহু কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। আমাদের পরিবারের মহিলারাই ধর্ষিতা হয়েছেন। জেসিবি দিয়ে বাড়ি ভাঙা হয়েছে, রাজ্যের মানুষকে অন্যত্র বসবাস করতে বাধ্য করা হয়েছে। আগামিকাল আবার ভোটগণনা। বিভিন্ন জয়াগায় এখনও পর্যন্ত মরিয়া হয়ে একটি রাজনৈতিক দল অবাঞ্চিত কিছু মানুষকে জড়ো করছেন। কিন্তু,এভাবে গণনা প্রক্রিয়ায় কোনও ব্যাঘাত ঘটানো যাবে না। ২০২১-এর পুনরাবৃত্তি ঘটানো যাবে না।”
আমরা যে যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি…
জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী শমীক ভট্টাচার্য। তবে, জেতার পর যেন কোথাও হিংসা না ছড়ান তাঁদের কর্মীরা সেই বিষয়ে বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন,”আমরা আপনাদের মাধ্যমে রাজ্যবাসীর কাছে, আমাদের কর্মী-সমর্থকদের কাছে ও যারা আমাদের দল করেন না, তৃণমূল কংগ্রেস করেন, তাঁদের কাছেও একটা আবেদন রাখছি আমাদের মূল লক্ষ্য হল পশ্চিমবঙ্গের ভোট সংস্কৃতির পরিবর্তন। ২০২১ সালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে, বা ২০১৬ সালের পর থেকে আমাদের সঙ্গে যা হয়েছে, সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি আমাদের লোকজন করবেন, এই পরিস্থিতি যেন না তৈরি হয়। আমরা যে অত্যাচারের শিকার হয়েছি, আমাদের কর্মীদের পরিবারগুলি যে যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, আমরা চাই না অন্যদের এখন সেই যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হোক।” তাঁর বার্তা, রাজনৈতিক বিভাজন যেন সংঘর্ষের রূপ না নেই।
২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ উঠেছিল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। বিজেপি অভিযোগ তুলেছিল, তৃণমূলের হামলার শিকার হতে হয়েছিল বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের। বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। অনেকে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। ৫৬ জন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছিল বলে দাবি তোলা হয়।