
কলকাতা: প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের (Sovan Chatterjee) নিশানায় এবার আরেক প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। রাজ্যে পালাবদলের পর মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম। বলেছিলেন, ‘ঢাল নেই, তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দার…এই চেয়ারের সম্মানহানি করব না।’ এবার প্রাক্তন মেয়রের সেই বক্তব্য টেনে এনে ফিরহাদকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন। টিভি৯ বাংলার এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন তুললেন, কেন রাজ্যপাঠ ছেড়ে চলে গেলেন ফিরহাদ? কেন পালিয়ে গেলেন? প্রশ্নের উত্তরটাও নিজেই দিয়ে দিয়েছেন শোভন (Sovan Chatterjee)।
একসময় কলকাতার মেয়র ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। ২০১০ সাল থেকে ২০১৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মেয়র পদে ছিলেন তিনি। দাবি করা হয়, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশের পরই ইস্তফা দেন শোভন। তাঁর জায়গায় মেয়র পদে আনা হয় ফিরহাদ হাকিমকে। ২০২৬ সালে পালাবদলের পরই মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেন তিনিও।
রাজ্যে পালাবদলের পরিস্থিতিতে ফিরহাদ হাকিমের জায়গায় থাকলে কী করতেন শোভন? প্রশ্নের উত্তরে টিভি৯ বাংলাকে বলেন, “ফিরহাদ হাকিম রাজ্যপাঠ ছেড়ে চলে গেলেন কেন? কী কারণে? বলে দিলেন ঢাল নেই তরোয়াল নেই নিধিরাম সর্দার? কর্পোরেশন অ্যাক্ট যিনি করে দিয়েছেন, বিধানসভার আইনও তিনি করেছেন, লোকসভার আইনও তিনি করেছেন। তিনি কে, ভারতবর্ষের সংবিধান। আপনি পৌরসভা ছেড়ে পালালেন কেন? আপনি বলছেন যে আপনার কথা কেউ শুনছে না? ফাইল পাঠাচ্ছেন না কারা, তাঁরা সরকারি অফিসার । তাঁরা চাকরি করছেন। আইনের সীমাবদ্ধতা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। আমার কাছে ফাইল ক্লিয়ারেন্স যদি না নিয়ে আসা হয়, আর তার ভিত্তিতে যদি সরকারি পয়সা যদি কোথাও খরচ হয়, সারাজীবন জবাবদিহি করতে লেগে যাবে।”
শোভনের কথায়, “ঢালও ছিল, তরোয়ালও ছিল। ডিটারমিনেশন ছিল না। সেই দৃঢ়তার অভাবেই উনি ছেড়ে পালিয়েছেন।” খলের সঙ্গে তুলনা করেছেন ফিরহাদকে। বলেন,”খলের যেমন ছলের অভাব হয় না, আর এরকম কাজ করলে তার যুক্তির অভাব হয় না। হাতির দু’টো দাঁত। দেখাবার ও খাওয়ার। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে কী কাজ করতে উনি পুরসভা ছেড়ে পালিয়ে গেলেন, জানি না। ঠিক বা বেঠিকভাবে কিছু কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে। কিছু পুরনো বিধানসভা সদস্য বা এখন যাঁরা বিধানসভায় রয়েছেন, তাঁদের উপরও হয়েছে। প্রাক্তন মন্ত্রীদের উপরও হয়েছে। সঠিক বা বেঠিক বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থা রেখে বুঝতে হবে। কিন্তু তার জন্য সেটাকে ছেড়ে চলে যেতে হবে, তা নয়।”