
কলকাতা: যত সময় গড়াচ্ছে, উত্তেজনা বাড়ছে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অর্থাৎ SRFTI-তে। দুই ছাত্র সংগঠনের স্লোগান পাল্টা স্লোগানে চড়ছে পারদ। তার মধ্যেই রক্তারক্তিকাণ্ড। ক্যাম্পাসের ভিতর ও বাইরে পাথর বৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ। তাতে একাধিক ছাত্র আহতও হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। ক্যাম্পাসের ভিতরে চলছে ‘জয় ভীম’, ‘ইনকিলাব’ , ‘আজাদি’ স্লোগান। আর বাইরে চলছে ‘জয় শ্রী রাম’, ‘ভারতমাতা’ স্লোগান।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার সকালে। ক্যাম্পাসে ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত পশ্চিমবঙ্গ প্রান্ত’-র অনুষ্ঠান চলছিল। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই ওই অনুষ্ঠান চলছিল। অভিযোগ, সেই সময় এসআরএফটি-র কিছু পড়ুয়া সেখানে ঢুকে তাদের পতাকা ছিঁড়ে ফেলে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। পাল্টা অভিযোগ, অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে বেশ কয়েকজন উস্কানিমূলক ভাষণ দিচ্ছিলেন। তা নিয়ে দুপক্ষের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। তারপর তাতে হাতাহাতি। অভিযোগ, যাঁরা অনুষ্ঠান করতে এসেছিলেন, তাঁদের বাস আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখানো হয়। পরে সেই বাস যখন ক্যাম্পাস থেকে বের হয়, এরপর শুরু হয় ইটবৃষ্টি। অভিযোগ, মুহূর্তের মধ্যে ক্যাম্পাসের বাইরে জড়ো হতে থাকে বহিরাগতরা। ক্যাম্পাসের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। যাতে কোনওভাবেই বহিরাগতরা ভিতরে ঢুকতে না পারেন।
সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়ায়, ক্যাম্পাসের গেট বন্ধ। একপাশে পড়ুয়ারা। ওপর পাশে বহিরাগতরা। ক্যাম্পাসের ভিতরে চলছে ‘জয় ভীম’, ‘ইনকিলাব’ , ‘আজাদি’ স্লোগান। আর বাইরে চলছে ‘জয় শ্রী রাম’, ‘ভারতমাতা’ স্লোগান। সন্ধ্যার পর পুলিশকে রীতিমতো ক্যাম্পাসের গেট টপকে ভিতরে ঢুকতে হয়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে থাকে।
উত্তেজনার মধ্যে গেটের এক পাশে এসে পড়েন হলুদ গেঞ্জি পরিহিত এক যুবক। তিনি নিজেকে ছাত্র বলে দাবি করেন। তিনি বলতে থাকেন, ‘মোর পাওয়ার টু স্টুডেন্ট’। হঠাৎ করেই দেখা যায়, পুলিশের সামনেই তাঁর ওপর চড়াও হন কয়েকজন। তাঁকে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়। গেঞ্জি খুলে যায় যুবকের। কোনওমতে তিনি গেটের কাছে আসেন। গেট টপকে অপর প্রান্তে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন তিনি। তখন রীতিমতো, তাঁর প্যান্টও টানা হিঁচড়ে খুলে যেতে থাকে। কোনওমতে গেট টপকে অপর প্রান্ত যান তিনি। পরিস্থিতি তারপরও আরও উত্তপ্ত হয়। অন্যদিকে, বহিরাগত বিক্ষোভকারীদের একজন বলতে থাকেন, “আজাদি স্লোগান দিচ্ছে ওরা, কীসের আজাদি, ভারতে থেকে কীসের আজাদি?”
সন্ধ্যা সাড়ে ছটার পরও তপ্ত রয়েছে পরিস্থিতি। পুলিশ কোনওভাবে দুপক্ষকে সামলানোর চেষ্টা করছে। তবে উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আরও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এসআরএফটি চত্বরে।