
কলকাতা: সৃজন ভট্টাচার্য, বঙ্গ সিপিআইএমের তরুণ মুখ। মেধাবী, ঝকঝকে শহুরে ছাত্রনেতা। গত বিধানসভায় সিঙ্গুর থেকে তাঁকে প্রার্থীও করেছিল সিপিআইম। সেই সময় থেকেই সৃজন সংবাদ শিরোনামে। মার্জিত বক্তব্য, আপাত বিনয়ী স্বভাবের সৃজন এভাবেই পরিচিত। কিন্তু সেই তাঁর বক্তব্যেই হঠাৎ ‘আগুনের গোলা’। ফেসবুক পোস্টে ভারতের ছাত্র ফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক নিদান দিয়ে বসলেন, ‘মারের পাল্টা মার’। কারণ কী?
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার। কলেজে ভর্তির প্রক্রিয়া চালু হতেই জেলায় জেলায় হেল্প ডেস্ক খুলেছে ভারতের ছাত্র ফেডারেশন। পড়ুয়াদের সাহায্যার্থে হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছিল বজবজেও। এসএফআইয়ের দাবি, শুরু থেকেই বেশ সাড়া পাচ্ছিলেন তাঁরা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এসএফআই জেলা সভাপতির অভিযোগ, ঘণ্টাখানেক হেল্প ডেস্ক চলার পরই সেখানে হামলায় চালায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিরা। জোর করে তুলে দেওয়া হয় ডেস্ক, গালিগালাজ করা হয় ‘কমরেডদেরও’। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ফেসবুকে ঝাঁঝালো পোস্ট করেন সৃজন। কমরেডদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “মার খেয়ে ফোন করবে না, পাল্টা মেরেই ফোন করবে। সেই মেজাজেই হেল্প ডেস্ক করছে এসএফআই কর্মীরা।”
ছাত্রনেতার এই বক্তব্যকে শুধু সমর্থন করাই নয়, কার্যত কাঁধে হাত রাখার মতো করেই পাশে দাঁড়ালেন সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। তবে সৃজনের এই বক্তব্যের পর পাল্টা দেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেনি তৃণমূলও। তৃণমূল মুখপাত্র সুদীপ রাহার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া, ‘কে সৃজন?’ এরপর সুদীপ অবশ্য বলেন, “ও আচ্ছা সৃজন ভট্টাচার্য? ৩৪ বছর মার দাঙ্গার রাজনীতি করেছে। সৃজন একা নেতা হয়ে কী করবে, এসএফআইয়ের তো কলেজ ইউনিটই নেই। আগামী দিনে ক্যাম্পাসে ভোট হলে এসএফআই প্রার্থী দিতে পারবে না। আমরা না হয় সৃজনদের জন্য প্রার্থী খুঁজে দেব।”
প্রসঙ্গত, ক্ষমতাচ্যুত হবার পর থেকে রাজ্যের বেশিরভাগ কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মুছে গিয়েছে এসএফআই। কলকাতায় যেমন ভিক্টোরিয়া কলেজে বেশ কিছু বছর ছাত্র সসংদ চালালেও তা এখন আর নেই। অস্তিত্ব বলতে এখন শুধুই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। শ্বেত পতাকা আর লাল তারার যুক্তি এখনও টিকে রয়েছে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’প্রেসিডেন্সিতেও। অন্যদিকে রাজ্যের সব কলেজেই আবার টিএমসিপি।