Suvendu Adhikari: ‘পরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় খুন, CCTV দেখে পুলিশ ক্লু পেয়েছে…’ পি.এ-র খুনের ঘটনায় মন্তব্য শুভেন্দুর
Suvendu Adhikari’s Secretary Shot Dead: গোটা ঘটনায় এখন পুলিশ তদন্ত করছে বলে সেভাবে এই বিষয়ে কিছু বলতে চাইছেন না রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। শুভেন্দু জানিয়েছেন, পুলিশের উপর আস্থা রয়েছে তাঁদের। দোষীরা দ্রুত ধরা পড়বে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে পুলিশের তরফে। তবে, শুভেন্দুর দাবি, "এটা ১৫ বছরের মহা-জঙ্গল রাজের ফল... বিজেপি এখানে গুন্ডাদের নির্মূল করার কাজ শুরু করবে..."।

মধ্যমগ্রাম : শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) আপ্ত সহায়ককে খুনের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। গতকাল রাতে মধ্য়মগ্রামের দোহাড়িয়ার কাছে গাড়ি থামিয়ে চন্দ্রনাথ রথকে (Suvendu Adhikari’s PA Chandranath Rath) লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালানো হয়। তাঁর বুকে ও পেটে গুলি লাগে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। ঘটনার পরই হাসপাতালে পৌঁছন বঙ্গ বিজেপির নেতা-কর্মীরা। গোটা ঘটনায় তৃণমূলের দিকেই আঙুল তুলেছেন বিজেপির (BJP) অর্জুন সিং(Arjun Singh), শঙ্কুদেব পন্ডারা। এবার এই ঘটনায় মুখ খুললেন শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনার পরই রাতে হাসপাতালে পৌঁছেছিলেন তিনি। সেখান থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দুর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে চন্দ্রনাথ রথকে।
শুভেন্দু-চন্দ্রনাথের ৮ বছরের সম্পর্ক
জানা গিয়েছে,শুভেন্দুর সঙ্গে চন্দ্রনাথের সম্পর্ক ৮ বছরের। তৃণমূলে থাকার সময় থেকেই ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল তাঁদের। পরে শুভেন্দুর ব্যক্তিগত থেকে রাজনৈতিক সব কাজের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। শুভেন্দুকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন চন্দ্রনাথ। আপ্ত সহায়কের নির্মম পরিণতিতে মর্মাহত শুভেন্দু। গতকাল রাতেই মধ্যগ্রামের হাসপাতালে পৌঁছন। বেশ কিছুক্ষণ সেখানে ছিলেন। তারপর হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা সাংসদ সুকান্ত মজুমদার।
শুভেন্দু কী বললেন?
ঘটনা প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন,”দুই তিনদিন ধরে রেইকি করে পরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন ডিজিপি। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মর্মন্তিক ঘটনা। আমরা ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমরা শোকাহত এবং এই ঘটনার নিন্দা জানানোর মতো ভাষা আমাদের নেই। দিল্লি থেকে আমাদের সমগ্র নেতৃত্ব এই বিষয়ে খবর পেয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার মৃতের পরিবার এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিভিন্ন নেতা এবং নব-নির্বাচিত বিধায়করা এখানে এসেছেন। তাঁরাও পরিবারের পাশে রয়েছেন। পুলিশ কিছু প্রমাণ পেয়েছে এবং তাঁরা তদন্ত করবে।”
গোটা ঘটনায় এখন পুলিশ তদন্ত করছে বলে সেভাবে এই বিষয়ে কিছু বলতে চাইছেন না রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। শুভেন্দু জানিয়েছেন, পুলিশের উপর আস্থা রয়েছে তাঁদের। দোষীরা দ্রুত ধরা পড়বে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে পুলিশের তরফে। তবে, শুভেন্দুর দাবি, “এটা ১৫ বছরের মহা-জঙ্গল রাজের ফল… বিজেপি এখানে গুন্ডাদের নির্মূল করার কাজ শুরু করবে…”। একইসঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদেরও বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর আবেদন, কেউ যেন আইন হাতে তুলে না নেয় ও শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে।
মধ্যমগ্রামের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। শুভেন্দু জানিয়েছেন, কোনও একটা ক্লু পেয়েছে পুলিশ। সেটা ধরেই তদন্ত করা হচ্ছে। আততায়ীর খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
