
কলকাতা: কয়েকদিন আগেই সরকারি দফতরগুলিতে কর্মীদের কাজের সময়সীমা নিয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছিল সরকার। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে সরকারি দফতরগুলিকে ব্যয় কমানো ও কাজের দক্ষতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হল। সব দফতরের প্রধান এবং জেলাশাসকদের এই নির্দেশ দেওয়া হল সোমবার। ব্যয় কমাতে ভিডিয়ো কনফারেন্স, ভার্চুয়াল মিটিং ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সর্বাধিক ব্যবহারে জোর দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে কাজের দক্ষতা বজায় রেখে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
১৫ বছর পর রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েই শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দেন, কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনতে হবে। আবার রাজ্যের মাথায় বিপুল ঋণের বোঝা থাকলেও মুখ্য়মন্ত্রী জানিয়ে দেন, বিগত সরকারগুলির চালু থাকা কোনও সামাজিক প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না। এই পরিস্থিতিতে অর্থের জোগান নিয়ে প্রশ্ন উঠে। কয়েকদিন আগে নতুন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছিলেন, তাঁরা ঠিক পথ বের করবেন। ব্যয় কমানোর কথাও বলেছিলেন। এবার সরকারি দফতরগুলিতে ব্যয় কমানো নিয়ে নির্দেশ দেওয়া হল।
ব্যয় কমাতে কী কী নির্দেশ দেওয়া হল?
সরকারি দফতরগুলিতে ব্যয় কমানোর বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, অপ্রয়োজনীয় সরকারি সফর কমানো এবং গণপরিবহণ, কারপুলিং ও ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারি অফিসে বিদ্যুৎ ও শক্তি সাশ্রয়মূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পেপারলেস অফিস, ই-অফিস চালু এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর উপর জোর দিতে হবে। দেশীয়ভাবে তৈরি পণ্যের ব্যবহার ও ‘স্বদেশি’ উদ্যোগকে উৎসাহ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্জ্য হ্রাস, পুনর্ব্যবহার ও প্রাকৃতিক সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। স্বাস্থ্যকর ও টেকসই জীবনযাত্রা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি দফতর ও জেলা প্রশাসনকে ২০২৬-২৭ সালের জন্য অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করে ২২ মে’র মধ্যে মুখ্যসচিবের দফতরে জমা দিতে হবে। আগামী ১ জুলাই থেকে প্রতি মাসে অগ্রগতি রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমস্ত সচিব ও জেলাশাসকদের বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত জরুরি’ হিসেবে দেখে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিল সরকার।