
কলকাতা: এবার মহম্মদ আলি পার্কের (Durga Puja 2021) সামনের রাস্তায় নিভল আলো। কলেজ স্কোয়ার ও মহম্মদ আলি পার্কের পুজো মণ্ডপে বেসামাল ভিড় মোকাবিলায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি পুলিশ প্রশাসনের। যদিও এই আলো নেভানোর ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছে বিজেপি (BJP)। কারণ, মুরলীধর সেন লেনে বিজেপির যে রাজ্য দফতর তার সামনে থাকা স্ট্রিট লাইট নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির দাবি, হাজার হাজার মানুষ ঠাকুর দেখতে আসছেন। তাঁরা যাতে কোনও ভাবেই বিজেপির পার্টি অফিস দেখতে না পান, সে কারণেই এই আলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
নবমীর শেষবেলায় মানুষের ঢল নেমেছে কলকাতার বুকে। শ্রীভূমির ‘বুর্জ খলিফা’ দেখার ‘অধিকার’ হারিয়েছেন সাধারণ মানুষ। তবে দর্শনার্থীরা কোনও ভাবেই এদিন ঘরবন্দি থাকতে রাজি নন। তাই এদিন দ্বিগুণ ভিড় দেখা গিয়েছে কলেজ স্কোয়ার, মহম্মদ আলি পার্কের মতো পুজোমণ্ডপগুলিতে। সকাল থেকেই মানুষের উপচে পড়া ভিড়। বেলা যত গড়িয়েছে, শুধু মানুষের মাথা দেখা গিয়েছে।
এরই মধ্যে এদিন সন্ধ্যায় হঠাৎই বিজেপির রাজ্য অফিসের সামনে রাস্তার ধারে থাকা তিনটি আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। কলকাতা পুরসভার এই আলোগুলি নিভিয়ে দেওয়ার পিছনে রাজনীতি রয়েছে বলেই অভিযোগ তোলেন বিজেপির কর্মীরা। বিজেপির দাবি, কলকাতা পুরসভা মুরলীধর সেন লেনে আলো নিভিয়ে দিয়েছে। আসলে বিজেপির রাজ্য দফতর যাতে দর্শনার্থীরা দেখতে না পান তাই এই কৌশল।
দলীয় কার্যালয়ে সন্ধ্যায় উপস্থিত এক বিজেপি কর্মীর কথায়, “অষ্টমীতেও আলো জ্বলেছে এখানে। নবমীতে হঠাৎ এখানে আলোটা বন্ধ করে দেওয়া হল। সারি সারি মানুষ এখান দিয়ে যাচ্ছিল। সামনেই পুজো মণ্ডপ। এই আলো নেভানোর কারণই হল, বিজেপির পার্টি অফিস যেন মানুষ দেখতে না পায়। আলোর সঙ্গে সঙ্গে এদিক দিয়ে মণ্ডপে ঢোকার গেটও বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ এটা সহজ রাস্তা। মহম্মদ আলি পার্কের ঠাকুর দেখে মানুষ এই রাস্তা দিয়ে সহজে কলেজ স্কোয়ারে যেতে পারেন।”
এই নিয়ে একটি ভিডিয়োও টুইট করেন বিজেপি নেতা রীতেশ তিওয়ারি। তিনি সরাসরি এই ঘটনার জন্য তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ‘তৃণমূলের দাদাগিরির এটা একেবারে স্পষ্ট একটা উদাহরণ।’ যদিও প্রশাসনের তরফে এই বক্তব্যকে নস্যাৎ করে দেওয়া হয়। তাদের দাবি, যে ভাবে মানুষ সন্ধ্যা থেকে কলেজ স্কোয়ার, মহম্মদ আলি পার্কের ঠাকুর দেখতে আসছেন, এই ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য পথবাতি নেভানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: Durga Puja 2021: নবমী নিশি ফুরোলেই উমার কৈলাস-গমন, ঘাটে ঘাটে কড়া নজরদারিতেই দশমীর বিসর্জন