
কলকাতা: কলকাতা পৌরনিগমের মেয়র পারিষদ তিনি। আবার রাসবিহারীর বিধায়কও। ছাব্বিশের নির্বাচনে সেই দেবাশিস কুমারকে রাসবিহারী আসনেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। হলফনামায় নিজের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিয়ে কী জানিয়েছেন দেবাশিস কুমার? গত পাঁচ অর্থবর্ষে তাঁর আয় কত? জেনে নিন হলফনামায় কী জানিয়েছেন রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী…
দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা পৌরনিগমের ৮৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবাশিস কুমার। একুশের নির্বাচনে রাসবিহারী আসনে জিতে প্রথমবার বিধায়ক হন। এবার সেই আসনে হলফনামা জমা দিয়েছেন তিনি। গত ৫ অর্থবর্ষে দেবাশিস কুমারের আয় কত? হলফনামায় রাহবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী জানিয়েছেন, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ৪৬ লক্ষ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে আয় বেড়ে হয় ৫৬ লক্ষ ৭৭ হাজার ৮৮৩ টাকা। পরের অর্থবর্ষে আয় প্রায় অর্ধেক হয়ে যায় রাসবিহারীর তৃণমূল বিধায়কের। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ২৮ লক্ষ ৫২ হাজার ৬৯৫ টাকা। তার পরের অর্থবর্ষে আরও কয়েক গুণ আয় কমে যায়। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে দেবাশিস কুমারের আয় ছিল ৫ লক্ষ ৭১ হাজার ১৪১ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আয় বেড়ে হয় ১২ লক্ষ ৬০ হাজার ৬৫৫ টাকা।
স্ত্রী দেবযানী কুমারের গত পাঁচ অর্থবর্ষের আয়ের হিসেব দিতে গিয়ে হলফনামায় দেবাশি কুমার জানিয়েছেন, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে তাঁর স্ত্রীর আয় ছিল ২ লক্ষ ৯৭ হাজার ৪৯০ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে দেবযানী কুমারের আয় ছিল ৩ লক্ষ ২৭ হাজার ৮৫০ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার ২৪০ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে আয় কিছুটা বেড়ে হয় ৫ লক্ষ ৭২ হাজার ৭১৯ টাকা। আর ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে দেবাশিস কুমারের স্ত্রীর আয় ছিল ৫ লক্ষ ৮৩ হাজার ৯৩২ টাকা।
দেবাশিস কুমার ও তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তি কত?
হলফনামায় দেবাশিস কুমার জানিয়েছেন, তাঁর হাতে নগদ ২২ হাজার ৬০০ টাকা রয়েছে। আর স্ত্রীর হাতে রয়েছে নগদ ১৬ হাজার ৫০০ টাকা। দেবাশিস কুমারের নামে ১৫ লক্ষ ২৯ হাজার ২২৮ টাকার স্থায়ী আমানত রয়েছে। আর অ্যাকাউন্টে টাকা রয়েছে। সবমিলিয়ে রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থীর ব্যাঙ্কে রয়েছে ২ কোটি ৩৬ লক্ষ ৬৫ হাজার ৯৬৫ টাকা। আর তাঁর স্ত্রীর নামে ব্যাঙ্কে রয়েছে ২৮ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৪৩ টাকা। দেবযানী কুমার একাধিক জায়গায় বিনিয়োগ করেছেন। সবমিলিয়ে ১৪ লক্ষ ১৫ হাজার ৪৮ টাকা বিনিয়োগ করেছেন।
দেবাশিস কুমার মোট ২৫ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা ঋণ দিয়েছেন। আর তাঁর স্ত্রী ৩৬ হাজার টাকা ধার দিয়েছেন জামাই গৌরব চট্টোপাধ্যায়কে। এছাড়াও একাধিক ঋণ দিয়েছেন তিনি। সবমিলিয়ে তৃণমূল প্রার্থীর স্ত্রী ২৯ লক্ষ ১ হাজার টাকা ঋণ দিয়েছেন।
রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থীর নামে দুটি গাড়ি রয়েছে। গাড়ি দুটি কিনতে পড়েছিল ১০ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা। সেই গাড়ি দুটির বর্তমান বাজারমূল্য ২ লক্ষ টাকা। তাঁর স্ত্রীরও নামেও দুটি গাড়ি রয়েছে। গাড়ি দুটি কিনেছিলেন ১১ লক্ষ ৮০০ টাকায়। গাড়ি দুটির বর্তমান বাজারমূল্য ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৯৮ টাকা।
হলফনামায় দেবাশিস কুমার জানিয়েছেন, তাঁর ৪৮ গ্রাম সোনার গয়না রয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৬ লক্ষ ১১ হাজার ৮৫৬ টাকা। রুপোর গয়না রয়েছে ৪০০ গ্রাম। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৮৮ হাজার ৮০০ টাকা। সবমিলিয়ে ৭ লক্ষ ৬৫৬ টাকার গয়না রয়েছে তাঁর। অন্যদিকে, রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থীর স্ত্রীর কাছে রয়েছে ২৩০ গ্রাম সোনার গয়না। যার বর্তমান বাজারমূল্য ২৯ লক্ষ ৩১ হাজার ৮১০ টাকা। আর রুপোর গয়না রয়েছে ৮৫০ গ্রাম। যার বর্তমান বাজারমূল্য ১ লক্ষ ৮৮ হাজার ৭০০ টাকা। সবমিলিয়ে তাঁর কাছে গয়না রয়েছে ৩১ লক্ষ ২০ হাজার ৫১০ টাকা। কুমার ইন্ডাস্ট্রিজে ৭৫ লক্ষ ৫৪ হাজার ৫০৮ টাকা রয়েছে তাঁর। স্ত্রীও কুমার ইন্ডাস্ট্রিজে বিনিয়োগ করেছেন। সবমিলিয়ে দেবাশিস কুমারের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৩ কোটি ৪৯ লক্ষ ৫০ হাজার ৫২১ টাকার। আর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ৮ লক্ষ ৩ হাজার ৩৮৭ টাকার।
দেবাশিস কুমার ও তাঁর স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তি কত?
রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী ও তাঁর স্ত্রীর নাম কৃষি ও অকৃষি জমি কিছু নেই। তাঁর বাসভবন নিয়ে হলফনামায় দেবাশিস কুমার জানিয়েছেন, তাঁর নামে দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। একটি কিনেছেন ২০০৪ সালে। অন্যটি ২০১৫ সালে। ফ্ল্যাট দুটি কেনেন ২৯ লক্ষ টাকায়। ওই ফ্ল্যাট দুটি বর্তমান বাজারমূল্য ১ কোটি ৪৬ লক্ষ ৫ হাজার টাকা। তাঁর স্ত্রীরও দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। একটি ২০০৪ সালে কেনা। অন্যটি ২০২০ সালে। ফ্ল্যাট দুটি কেনেন ৭৯ লক্ষ টাকায়। যার বর্তমান বাজারমূল্য ১ কোটি ৮৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা।
সবমিলিয়ে দেবাশিস কুমারের স্থাবর সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ৪৬ লক্ষ ৫ হাজার টাকার। আর তাঁর স্ত্রীর স্থাবর সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ৮৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার। হলফনামায় দেবাশিস কুমার জানিয়েছেন, তাঁর ও স্ত্রীর পেশা ব্যবসা। দু’জনেরই আয়ের উৎস ব্যবসা থেকে আয় ও ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য থেকে প্রাপ্ত সুদ।
নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে হলফনামায় বছর ছেষট্টির দেবাশিস কুমার জানিয়েছেন, ১৯৭৬ সালে মাধ্যমিক পাশ করেন তিনি। ১৯৭৮ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। ২০২১ সালে MATS বিশ্ববিদ্যালয় থেকে M.Com পাশ করেন। আবার MATS বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২৪ সালে ব্যাচেলরস অব ল পাশ করেন।