
কলকাতা: ফুরফুরা শরিফ পরিবারের সন্তান। আব্বাস সিদ্দিকী ও নওশাদ সিদ্দিকীর তুতো ভাই। এক সময়ে তিনি তৃণমূল বিরোধী হিসাবেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু এখন ফুরফুরা শরিফের সঙ্গে তৃণমূলের রসায়নে নতুন তাস তিনি। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে রাজ্য সরকারের সমালোচনায় সরব ছিলেন কাশেম। পরবর্তীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তৃণমূলে যোগ দেন। কাশেম সিদ্দিকীকে এবার আমডাঙা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী করেছে তৃণমূল। আমডাঙা কেন্দ্রটি বরাবরই সংখ্যালঘু ও গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্কের কারণে গুরুত্বপূর্ণ। ভোটব্যাঙ্ক তো হল, কাশেমের ব্যাঙ্কে কত টাকা রয়েছে, তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ কত জানেন?
হলফনামা অনুসারে, কাশেম সিদ্দিকী তিনি পেশায় একজন সমাজসেবী এবং কৃষি ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এই মুহূর্তে কাশেম সিদ্দিকীর হাতে ১ লক্ষ ২০ হাজার ২৫৬ টাকা রয়েছে। তাঁর স্ত্রীর হাতে টাকা রয়েছে ৫৬ হাজার ৭২০। এসবিআই ও একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক মিলিয়ে কাশেমের দুটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। তার মধ্যে বেসরকারি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে রয়েছে মোট ৩৫ হাজার টাকা। এসবিআই-এর অ্যাকাউন্টে কত টাকা রয়েছে, তা হলফনামায় উল্লেখ করেননি তিনি। কাশেমের দুটো গাড়ি ও একটা স্কুটি রয়েছে। সোনা বলতে কাশেমের কিছুই নেই। সব মিলিয়ে কাশেমের অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২৭ লক্ষ ১২৪টাকার। কাশেমের স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১৮ লক্ষ ১৩ হাজার ৫২০ টাকা রয়েছে।
হাওড়ার জগৎবল্লভপুর ও ফুরফুরায় দুটি চাষের জমি রয়েছে কাশেমের। কেনার সময়ে বাজারমূল্য ছিল ১৯ হাজার ৯০০ টাকা ও আরেকটি বাজারমূল্য ৪০ হাজার টাকা। বর্তমানে দুটি জমির বাজার মূল্য যথাক্রমে ১৫ হাজার টাকা ও ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। ফুরফুরাতেই কাশেমের বাড়ি। ১৯৯৫ সালে বাড়িটি তৈরি হয়েছিল। বাড়িটির বর্তমান মূল্য ৭ লক্ষ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা। সব মিলিয়ে কাশেমের স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১৩ লক্ষ ৪০ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যাঙ্কে কেবল কাশেমের গাড়ির লোন রয়েছে। সেটি ১০ লক্ষ ৩০ হাজার ৫০০ টাকার। হলফনামা অনুসারে কাশেমের নামে একাধিক মামলা রয়েছে থানায়। তবে একটিও তিনি দোষী প্রমাণিত হননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কথায়, কাসেম সিদ্দিকীর মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে প্রার্থী করে নওশাদ-আব্বাসের ওপর চাপ তৈরির প্রয়াস করেছে তৃণমূল। ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা হিসাবে তাঁর একটি শক্তিশালী ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচিতি রয়েছে।