
কলকাতা: ভোটদানের হারে সর্বকালের সেরা ভোট দেখল বাংলা। সেরা ভোট দেখল দেশ। তৃণমূল থেকে বিজেপি, জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী যুযুধান দুই শিবিরই। এবার দ্বিতীয় দফা শেষ হতে না হতেই সামনে এসে গেল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট। সূত্রের খবর, তাঁদের তরফে যে পর্যালোচনা রিপোর্ট তৈরি হয়েছে, তাতে ঘাসফুল শিবিরের বিপুল জয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সোজা কথায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুকে হাতিয়ার করে ঘাসফুল শিবির পুরো দস্তুর আত্মবিশ্বাসী। অর্থাৎ ফের তারা বড় ব্যবধানে ক্ষমতায় ফিরছে।
তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট বলছে, দল এই নির্বাচনে ২৩০টি আসন পেতে চলেছে। এছাড়াও আরও বেশ কিছু বড় দাবি করা হয়েছে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, উভয় কেন্দ্রেই শুভেন্দু অধিকারীর পরাজয় নিশ্চিত। জয়ের আনন্দে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সুরের সঙ্গে ডিজে বাজিয়ে বর্ণাঢ্য উদযাপনও করতে চলেছে ঘাসফুল শিবির।
রিপোর্টে মূলত বেশ কয়েকটি বিশেষ ইস্যুকে তৃণমূলের জয়ের অন্যতম কারিগর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাঙালিদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়ার যে চেষ্টা চালানো হয়েছিল, ভোটাররা ব্যালট বাক্সে তার যোগ্য জবাব দিয়েছেন বলে মনে করছে দল। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের অজয় পাল শর্মার মতো ‘বহিরাগতদের’ বাঙালি মহিলাদের প্রতি অপমানজনক মন্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। উত্তরপ্রদেশ বা গুজরাট থেকে বিজেপি নেতারা এসে বাঙালির উপর যে ভাবে ‘ধমক-চমক’ বা ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে, সাধারণ মানুষ তাকে ভালোভাবে নেয়নি। একে বাঙালির আত্মমর্যাদায় আঘাত হিসেবেই দেখেছেন ভোটাররা। এমনটাই মনে করছে তৃণমূল।
পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সহ বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের প্রভাবে রাজ্যের নারীশক্তি তৃণমূলের উপর পূর্ণ আস্থা রেখেছে। যা ভোটের ফলে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে চলেছে। একইসঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা এবং তাঁদের প্রতি রাজ্য সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তৃণমূলের ভোটের বাক্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি এনআরসি এবং সিএএ নিয়ে মানুষের মনে যে আশঙ্কার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তার জেরে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ভোটের রায়ে প্রতিফলিত হয়েছে বলে তৃণমূলের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে বলে খবর।