
কলকাতা: একপাশে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), অন্যপাশে মুকুল রায় আর মাঝে বসে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক নেতা কুণাল ঘোষ। তিনজনেরই হাসি মুখ। ছবিটি অনেক পুরনো। অন্তত তিনজনের চেহারা সেই কথাই বলছে। আর সেই ছবিটি পোস্ট করেই পুরনো কিছু কথা শেয়ার করলেন কুণাল। মুকুলের প্রয়াণে যেমন লিখলেন ভাল কথা, তেমন আবার ভাল মধ্যেও লিখলেন মন্দটাও।
দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন মুকুল। একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তিও ছিলেন তিনি। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত দেড়টা নাগাদ শহরের সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আর এবার মুকুলকে নিয়ে লিখতে গিয়ে অতীতের প্রায় সব কথাই লিখলেন কুণাল।
মুকুলের আত্মার শান্তি কামনা করে প্রথমে তিনি লিখেছেন, মুকুল কতটা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আনুগত্য ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক বুদ্ধি কতখানি তীক্ষ্ন ছিল তা মেনেছেন কুণাল। তিনি লিখেছেন, “দলের কঠিন সময়েও তৃণমূলভবন আগলে পড়ে থাকত। কর্মীদের সময় দিত। দিদির নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ ছিল। বাংলা চিনত।” তবে বিজেপিতে মুকুলের যাওয়াকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি এই তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক। এমনকী তাঁকে বিজেপিতে যোগদান করার জন্যও অনুরোধ করেছিলেন মুকুল বলে দাবি কুণালের। লিখেছেন, “মুকুলদা তখন বিজেপিতে, আমাকে নানা কথা বলে আবার কাছে টেনে বিজেপিতে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।” তবে কুণাল নিজে কতটা দলের প্রতি আনুগত্য এ দিনের তাঁর লেখনিতে সে কথা একপ্রকার স্পষ্ট।
এরপর নিজেই তোলেন পুরোনো দিনের কথা। শীতের রাতে কালিম্পংয়ে সময় কাটানো দুজনের। আবার রুম হিটার জ্বালিয়ে রাত জেগে নানা গল্প-গুজব সবটাই লিখেছেন তিনি। এ দিন, কুণাল নিজের লেখায় বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন মুকুলকে রাজনীতির ‘চাণক্য’ বলা হয়।