
কলকাতা: ২ দিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর তিনি শপথ নেওয়ার পরই একাধিক আমলার রদবদল হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে একাধিক নতুন অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। নবান্ন থেকেও আবার বদলি করা হয়েছে কাউকে কাউকে। কলকাতা পুলিশেও ব্যাপক রদবদল হয়েছে। এই নিয়ে এবার মুখ খুললেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। নতুন রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে কী বললেন তিনি?
আমলা, পুলিশ অফিসারদের রদবদল নিয়ে কী বললেন শোভনদেব?
আমলাদের রদবদলের পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের ৯৩ জন পুলিশ অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। এই রদবদলকে তিনি সমর্থন করেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে টিভি৯ বাংলাকে বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব বলেন, “যাঁদের বদলি করা হচ্ছে, সবটাই ভুল এটা আমি বলব না। যা করছেন, সবটাই ভুল করছেন, এটা আমি মনে করি না। কিছু কিছু জায়গায় নিজের ক্ষমতার বাইরে গিয়ে বেশি ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে। সেখানে যদি কারও বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়, আমার কিছু বলার নেই।”
১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন হওয়ার পর মমতার দলের প্রথম বিধায়ক শোভনদেব। এবার বিধানসভার বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব তাঁর কাঁধেই দিয়েছেন মমতা। এবার কি বিধানসভায় কঠিন লড়াই? প্রশ্ন শুনে বর্ষীয়ান এই তৃণমূল নেতা বললেন, “রাজনীতি করার আগে আমি খেলোয়াড় ছিলাম। বক্সিং করতাম। সেখানে একাকেই লড়াই করতে হয়েছে। এবং ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে জিতেছি বক্সিংয়ে। ফলে লড়াইটা আমি জীবনের প্রথম থেকেই শিখে এসেছি। রাজনীতিতে দীর্ঘদিন বিরোধী দলে ছিলাম। তবে প্রত্যেক জায়গায় পরিপ্রেক্ষিত আলাদা। তখনকার বিরোধী দলে থাকা, এখন বিরোধী দলে থাকা, বক্সিং রিং, সবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। একটা মিল রয়েছে-যুদ্ধটা। সেটা আমার মতো করে ঠিক করে নিতে হবে। দলও কতগুলো নির্দেশ নিশ্চয় আমাকে দেবে। সেই নির্দেশগুলো মেনে কাজ করব।”
নির্বাচন পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে শোভনদেব বলেন, “নির্বাচনের পর চারদিকে ব্যাপক সন্ত্রাস চলছে। শহরটাকে বাদ দিয়েছে। এটা পরিকল্পনামাফিক। বিজেপি আসার পর ভয় বেড়েছে। হাজার হাজার ছেলে ঘরছাড়া। অপরাধী, তোলাবাজদের সাজা হোক। অপরাধ করলে সাজা পেতেই হবে। কিন্তু, সাধারণ মানুষ কেন ঘরছাড়া হবে?”